সম্ভাবনার সীমানা ছুঁয়ে চিরবিদায় সঞ্জুর

সম্ভাবনার সীমানা ছুঁয়ে চিরবিদায় সঞ্জুর
সম্ভাবনার সীমানা ছুঁয়ে চিরবিদায় সঞ্জুর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা বাগানের শ্রমিক পরিবারে জন্ম সঞ্জু বারাইক-এর। সীমাহীন অভাব-অনটনের বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা সেই ছেলেটিই পরবর্তীতে ভর্তি হয় দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলা এক সম্ভাবনাময় জীবনের প্রতিচ্ছবি ছিলেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ করেই থেমে গেল তার স্বপ্নযাত্রা। সোমবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের নবনির্মিত রবীন্দ্র ভবনের নিচে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পাওয়া যায়।

সঞ্জু বারাইক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। থাকতেন জগন্নাথ হলে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা বাগানে, পিতা মনিরুদ বারাইক ওই এলাকার একজন চা শ্রমিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন জানায়, সঞ্জু কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ঘটনার আগে রাত আড়াইটার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে নিজের ভুল স্বীকার করে সকলের কাছে ক্ষমা চান। এরপর ভোররাতে হলের ছাদে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিচে পড়ে যান।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়েছেন। আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা— সেটি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

চা শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে আসা এক সংগ্রামী তরুণের এমন করুণ পরিণতিতে শোকস্তব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও তাঁর গ্রাম। হতভাগ্য পিতা-মাতা ও স্বজনদের আহাজারিতে আজ আমু চা বাগানে শোকের ছায়া।

জীবনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে সঞ্জুর উচ্চশিক্ষায় আগমন ছিল এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। অথচ সম্ভাবনার সেই আলো নিভে গেল অকালেই। সমাজে বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ ও সহায়তার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল এই মৃত্যু।