সিএনজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, পুড়ল ১০ গাড়ি

সিএনজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, পুড়ল ১০ গাড়ি
একটি ফিটনেসবিহীন বাস থেকে। বিস্ফোরণের সময় কাছেই ছিল বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি প্যাড ও জালালাবাদ গ্যাসের ডিআরএস সেন্টার

এমএ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ফিটনেসবিহীন একটি পুরোনো বাসে গ্যাস ভরার সময় ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে ওই বিস্ফোরণ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে নয়টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি বাস, দুটি মোটরসাইকেলসহ পুরো পাম্প পুড়ে যায়। এতে ছয়জন গুরুতর আহত হন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ছয়টার দিকে পুরোনো বাসটিতে গ্যাস ভরার সময় পাইপ ছিঁড়ে হঠাৎ বিস্ফোরণ

ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ, বাহুবল ও ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির কথা বললেও ফায়ার সার্ভিস বলছে, ক্ষতি কিছুটা কম হবে।

পাম্পের তিনতলায় থাকা কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে নিচে লাফ দেন। এতে সহকারী ম্যানেজার শোয়েব আহমদসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কর্মী রাসেল (২৫), ম্যানেজার জয়নাল আবেদিন (৪০), শোয়েব আহমদ (৩০) এবং রাসেল মিয়াসহ চারজন সিএনজি চালক রয়েছেন। আউশকান্দি সিএনজি শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোমান আহমদ বলেন, ‘আমাদের সমিতির নয়টি গাড়ি পুড়ে গেছে। এ পাম্প ছাড়া নবীগঞ্জে আর কোনো গ্যাস পাম্প নেই। এখন আমাদের সিলেট বা বাহুবল থেকে গ্যাস নিতে হবে।’

পাম্পের ইঞ্জিনিয়ার এমএ বাতেন জানান, ঘটনাটি ঘটেছে একটি ফিটনেসবিহীন বাস থেকে। বিস্ফোরণের সময় কাছেই ছিল বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি প্যাড ও জালালাবাদ গ্যাসের ডিআরএস সেন্টার। অল্পের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

জালালাবাদ গ্যাসের নবীগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের প্রধান মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, ‘অগ্নিকা-ের সময় আমরা সঙ্গে সঙ্গে পুরো নবীগঞ্জের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিই। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।’

নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, ‘আগুনে ৯টি সিএনজি ও একটি বাসসহ পুরো পাম্প ছাই হয়েছে। চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাসটির কোনো কাগজপত্র বা মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র পুড়ে গেছে। মালিককে পেলে বোঝা যাবে ফিটনেস ছিল কি না।’

শেভরনের মিডিয়া কমিউনিটি অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা সব সময় সতর্ক ছিলাম।’

হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাসটি স্পষ্টত ফিটনেসবিহীন ছিল। রিফুয়েল করার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে মূল গ্যাস মজুতে পর্যন্ত আগুন না পৌঁছায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।’

সিলেট বিভাগীয় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তফা ফারুক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ হয়েছে বাসটি ফিটনেসবিহীন ছিল। নবীগঞ্জ থানাকে মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বলা হয়েছে। আমরা সব সিএনজি পাম্পকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’