হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯ যানবাহন অব্যবহৃত থেকে বিকল
হবিগঞ্জ পৌরসভার কোটি টাকা মূল্যের ৪টি ট্রাক, ৪টি রোড রোলার ও ১টি ট্রাক্টর বহুদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অচল থাকায় যানবাহনগুলো বিকল হয়ে গেছে, বেশিরভাগ আগাছার নিচে চাপা পড়েছে, যন্ত্রাংশও নেই জায়গামতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার জনবল ও উপকরণ সংকটে রাস্তায় খানাখন্দ ঠিক করা যাচ্ছে না, শহরের পথে পথে জমে আছে ময়লার ভাগাড়। অথচ কোটি টাকার এসব যানবাহন বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকায় সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
সম্প্রতি পৌরসভার কিবরিয়া মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তিনটি ট্রাক, দুটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক্টরসহ অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এগুলোর গায়ে জং ধরে গেছে, যন্ত্রাংশ ও বডির পাতের অনেক অংশ কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। টায়ার মাটির নিচে ঢুকে গাড়িগুলো এখন রিংয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া পুরাতন পৌরসভা এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে একটি ট্রাক লতাপাতার নিচে ঢাকা পড়ে আছে; কাছে গেলে শুধু চালকের আসন ও স্টিয়ারিং চোখে পড়ে। ওই স্থানে আরও দুটি বড় রোড রোলারে গাছ গজিয়ে উঠেছে, চাকা খুলে পাশের পরিত্যক্ত জলাশয়ে পড়ে আছে।
পৌর কিবরিয়া মিলনায়তনে পৌরসভার একজন শ্রমিক জানান, তিনি কয়েকদিন ধরেই যানবাহন ও যন্ত্রপাতি পাহারা দিচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
পুরাতন পৌরসভা এলাকায় জহুর আলী রেস্তোরাঁর মালিক ও ছাত্রনেতা আবিদুর রহমান রাকিব বলেন, রোড রোলার ও ট্রাকগুলো বহু বছর ধরে এখানে পড়ে রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করছে না এবং ভাড়াও দিচ্ছে না। জনগণের সম্পদ নষ্ট হওয়া উচিত নায়। এগুলো মেরামত করে উপযুক্ত কাজে লাগানোর দাবি করছি।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, একেকটি রোড রোলার ভাড়া দিলে রোজ ২-৩ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এটি কেন পৌর কর্তৃপক্ষ করছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি মেয়র থাকতে পৌরসভার এসব উপকরণ ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আয় করেছি।
হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামছুল হুদা বলেন, পৌরসভার জনবল ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে শহরের রাস্তায় খানাখন্দ ঠিক করা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। অথচ কোটি টাকার এসব যানবাহন বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকায় সরকারের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আমরা এসব যানবাহন ব্যবহার করে পৌরভার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস শামীম খোয়াইকে বলেন, কয়েকটি গাড়ি ও নির্মাণযন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, শিগগির এগুলো মেরামত করে কাজে লাগানো হবে।
