একুশ লাখের সরকারি ধান কাটার যন্ত্র ২ লাখ টাকায় ভাঙারি দোকানে বিক্রি

একুশ লাখের সরকারি ধান কাটার যন্ত্র ২ লাখ টাকায় ভাঙারি দোকানে বিক্রি
একুশ লাখের সরকারি ধান কাটার যন্ত্র ২ লাখ টাকায় ভাঙারি দোকানে বিক্রি

প্রধান প্রতিবেদক ॥ ভাঙারি দোকান থেকে সরকারি ভর্তুকি মূল্যের ধান কাটার মেশিনের যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনায় ক্রেতা-বিক্রেতা ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ২১ লাখ টাকা মূল্যের এই মেশিনের যন্ত্রপাতি মাত্র ২ লাখে বিক্রি করে দেওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় নগর এলাকার আব্দুল আহাদের ছেলে আল আমিন গত মঙ্গলবার বানিয়াচং থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

আসামীরা হলেন, বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের মামুন মিয়া (৩৫), একই গ্রামের রায়হান মিয়া (২৮) ও লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের জালাল উদ্দিন আহম্মেদ মান্না। তাদের মধ্যে পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তার করে

কারাগারে পাঠিয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আল আমিন ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে গ্রহণ করেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে গত বছরের পহেলা অক্টোবর আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য ৩ লাখ টাকা ভাড়ায় সেটি মামুনকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু ভাড়া পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে গেলেও আল আমিনকে টাকা দিচ্ছিলেন না মামুন। পরে গত রবিবার মেশিন কোম্পানীর (আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড) মাধ্যমে জানতে পারেন— জালাল ও রায়হানের ভাঙারি দোকানে মাত্র ২ লাখ ১৩ হাজার টাকায় এর যন্ত্রপাতি বিক্রয় করে দিয়েছেন মামুন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ সেদিনই জেলা সদরের বাইপাস রোডে রায়হানের দোকান থেকে কিছু যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে এবং বাকী যন্ত্রপাতি জালাল উদ্দিন লাখাই থেকে থানায় পাঠিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যন্ত্রপাতি উদ্ধারের সময় রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বানিয়াচং থানা পুলিশ বাকী দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করবে।’

যোগাযোগ করা হলে বানিয়াচং থানার ওসি মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সুজাতপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মোতালিবকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেশিন বিক্রেতা ও অপর ভাঙারি দোকানি জালালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হবে।’