তিন দিনের অন্ধকারে ডুবে ছিল হবিগঞ্জ

গ্রীড লাইনের অভাবে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

গ্রীড লাইনের অভাবে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

প্রধান প্রতিবেদক ॥ তিন দিনের অন্ধকারে ডুবে ছিল পুরো হবিগঞ্জ জেলা। দুদফা অগ্নিকাণ্ডে বিকল হয়ে পড়ে শাহজীবাজার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল পুরোপুরি বন্ধ। ব্যর্থ হয় সব বিকল্প ব্যবস্থা। কারণ, হবিগঞ্জের নেই নিজস্ব কোনো গ্রীড লাইন।

গত ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম আগুন লাগে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচিং উপকেন্দ্রে। বিস্ফোরণের পর একে একে বিকল হয়ে যায় দুটি সার্কিট ব্রেকার ও তিনটি ট্রান্সফরমার। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ২ আগস্ট রাতে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গ্রামে আলো

পৌঁছায়নি। এর মধ্যেই ৪ আগস্ট দুপুরে আবার আগুন লাগে জাতীয় গ্রিডের ‘টি আর-টু’ ব্রেকারে। এরপর পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় শাহজীবাজার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৩২ কেভি (৩৩,২০০ ভোল্ট) লাইনে। প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে এই লাইন বয়ে এসে ট্রান্সফরমার ঘুরে আবাসিক গ্রাহকদের কাছে ২২০ ভোল্টে পৌঁছায়। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের একাধিক ট্রান্সফরমার। তবে এই পুরো ব্যবস্থাটিই নির্ভরশীল কেবল একটি কেন্দ্রের ওপর। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা গ্রীড লাইন নেই। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো ত্রুটিতে পুরো জেলাই হয়ে পড়ে অন্ধকার।

খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানায় রয়েছে আলাদা গ্রীড লাইন। অথচ হবিগঞ্জ জেলা সদরসহ পুরো জেলাবাসীর জন্য আজও কোনো গ্রীড লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে খোয়াইকে বলেন, ‘শুধু শাহজীবাজার কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনায় পুরো জেলায় অন্ধকার নেমে আসে। হবিগঞ্জে যদি নিজস্ব গ্রীড লাইন থাকত, তাহলে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ চালু রাখা যেত। যেমন ধরুন, শাহজীবাজারে বৃষ্টি বা ত্রুটি হলে হবিগঞ্জে তার প্রভাব পড়ত না।’

তিনি বলেন, ‘এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। তাদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। একইভাবে দুর্ভোগে জেলা সদরের আরও প্রায় ৫০ হাজার আবাসিক গ্রাহক।’

এ বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মমিন বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সময় হবিগঞ্জে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছে। কিন্তু একটা গ্রীড লাইন স্থাপন করে বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেউ করেননি। এটা জনপ্রতিনিধিদের ভাবার কথা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ চলে যায়, সেটিও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু দুইবার আগুন লাগার পর টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকা চরম দুর্ভোগ। এটা আর চলতে পারে না।’

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।