ছাত্রীকে শাসন করায় প্রকাশ্য সালিশে ক্ষমা চাওয়ানো হল শিক্ষককে

ছাত্রীকে শাসন করায় প্রকাশ্য সালিশে ক্ষমা চাওয়ানো হল শিক্ষককে
ছাত্রীকে শাসন করায় প্রকাশ্য সালিশে ক্ষমা চাওয়ানো হল শিক্ষককে

নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক শেখ মারজান আহমেদকে এক ছাত্রীকে শাসন করার অভিযোগে গত মঙ্গলবার জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে। ঘটনার পর জেলাজুড়ে বিষয়টি ব্যাপক নিন্দার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, “শিক্ষক শুধুমাত্র একটি পেশার প্রতীক নয়; তিনি শিক্ষার্থীর জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। শিক্ষার্থী যদি ক্লাসে মনোযোগ না দেয়, শিক্ষক তাকে শাসন করতেই পারেন। তবে তার জন্য শিক্ষককে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা নিন্দনীয়।”

জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী গত সোমবার পড়া উপস্থাপন করতে না পারায় ইংরেজি শিক্ষক শেখ মারজান আহমেদ তাকে শাসন করেন। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে ঘটনা জানালে রাতেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার বাড়িতে ছাত্রীকে দেখতে যান।

এরপরও অভিভাবকরা দাবি করেন, “শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করতে হবে অথবা জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।” এর প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে এলাকার শতাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে মারজান আহমেদকে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

সালিশপ্রধান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম কালাম বলেন, “শিশুটি সালিশে উপস্থিত ছিল না, তার অভিভাবকের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মেয়েটি কি আঘাত পেয়েছে বা চিকিৎসা নিয়েছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছি। এছাড়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হক জানান, শিক্ষার্থী ক্লাসের পড়া উপস্থাপন করতে না পারায় তাকে শাসন করা হয়েছে। সালিশের পুরো বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জনতার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষককে এভাবে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ানো ঠিক হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাকিল আহমদ বলেন, রাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে ঘটনা অবগত করেন। পরের দিন সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকের জন্য উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি করেন, শিক্ষককে স্কুল থেকে বহিস্কার করা বা জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সিদ্ধান্তে শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজনীন জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে তিনি আজ এটি খোঁজ নেবেন।