দুই স্ট্যান্ডের বিরোধে ২০ দিন কর্মহীন তিন শতাধিক চালক
প্রধান প্রতিবেদক ॥ হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর উত্তরপার সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও বানিয়াচংয়ের গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়, আধিপত্য ও সিরিয়াল বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের জেরে অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ রুটটি। সেনাবাহিনীর নির্দেশনা সত্ত্বেও নেতাদের উদ্যোগহীনতায় প্রায় ২০ দিন ধরে কর্মহীন পড়ে আছেন তিন শতাধিক অটোরিকশা চালক। বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
স্ট্যান্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর ভোর ৭টার দিকে গ্যানিংগঞ্জ বাজার সমিতির কয়েকজন শ্রমিক বানিয়াচংগামী যাত্রার সিরিয়াল লিখতে যান খোয়াই নদীর উত্তরপাড় স্ট্যান্ডে। সেখানে চাঁদা বৃদ্ধি ও সিরিয়াল বরাদ্দ নিয়ে তর্কের জেরে স্ট্যান্ডম্যানেজার সিরিয়াল দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে বাকবিত-া মারধরে গড়ায়। আহত হন ফুল মিয়া নামে এক শ্রমিক; তার সিএনজি অটোরিকশাও ভাংচুর করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় সকাল ৮টার দিকে বানিয়াচংয়ের শরীফউদ্দিন সড়কে উত্তরপাড় স্ট্যান্ডের দুই শ্রমিককে ধরে মারধর করেন গ্যানিংগঞ্জ বাজার সমিতির সদস্যরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-গ্যানিংগঞ্জ বাজার, শিবপাশা ও আজমিরীগঞ্জসহ পাঁচটি রুটেই অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একদিন পর চারটি রুট স্বাভাবিক হলেও উত্তরপাড়-গ্যানিংগঞ্জ বাজার ও আজমিরীগঞ্জ রুট আর চালু হয়নি।
অচলাবস্থা নিরসনে গত ১৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় সেনাবাহিনীর হবিগঞ্জ ক্যাম্পে দুই স্ট্যান্ডের পাঁচজন করে মোট দশ নেতাকে ডেকে পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনায় দুইদিনের মধ্যে সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হলেও নেতারা মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করেননি। ফলে তিন দিন আংশিক চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায় রুটটি।
চলমান সংকটে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন চালকেরা। গ্যানিংগঞ্জ বাজার স্ট্যান্ডের চালক কাছন মিয়া বলেন, “২০ দিন আয় নেই। সংসার চালাতে ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা ধার করেছি। এখন সিএনজি বাদ দিয়ে অন্য কাজে যাওয়ার চিন্তা করছি।” একই হতাশা জানালেন চালক আবু সুফিয়ানসহ আরও অনেকে।
যাত্রীরাও বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে হবিগঞ্জ-গ্যানিংগঞ্জ যাতায়াত করছেন। এতে সময় ও খরচ দুদিকেই বাড়তি চাপ পড়ছে।
