প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও আড়ালে আ.লীগ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও আড়ালে আ.লীগ
ছাত্রজনতার আন্দোলনে অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছাত্রজনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট অভাবনীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দলটির যাবতীয় কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষেও এবার পালন হয়নি কোনো আনুষ্ঠানিকতা।

হবিগঞ্জে সোমবার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নীরবেই কেটে গেছে। আগে যেখানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, র‌্যালি, দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোকসজ্জায় মুখর থাকত পুরো জেলা, এবার ছিল সম্পূর্ণ নীরবতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আবু জাহির, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা বর্তমানে পলাতক। কেউ রয়েছেন দেশের বাইরে, কেউ আত্মগোপনে। কারাগারে আছেন সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ খান, সাবেক মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংগঠনিক সদস্য মাহবুব আলী, সাবেক সংসদ সদস্য সায়েদুল হক সুমনসহ দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বহু নেতা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয়রাও পলাতক। অধিকাংশের বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো তো দূরের কথা, প্রকাশ্যেও আসছেন না কোনো নেতা।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঘটা করে কর্মসূচি পালন করত। এবারের নীরবতা সেই ধারার বড় বিচ্যুতি— যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনরোষে ক্ষমতা হারানো ও মামলা-গ্রেপ্তারের ভয়ে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগের জন্য আগামীর পথটা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট একজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি বারবার সংকটে পড়েছে, বাধা অতিক্রম করে উঠে দাঁড়িয়েছে। এবারকার সংকট ব্যতিক্রম ও কঠিন। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

দেশ-বিদেশে পলাতক আছেন— জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, মশিউর রহমান শামীম, সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল, সাবেক সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী।