বালুর গাড়ি আটকে এনসিপি-বিএনপি দ্বন্দ্বর

বালুর গাড়ি আটকে এনসিপি-বিএনপি দ্বন্দ্বর
আমতলী থেকে চুনারুঘাটগামী বালুবোঝাই একটি ট্রলি আটক করেন হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্য ফজলুল করিম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাটে বালুবোঝাই একটি ট্রলি আটকের পর এনসিপি, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় বসে সমাধানের চেষ্টা হলেও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন দলীয় নেতারা।

জানা যায়, গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে পুরাতন মহাসড়কে আমতলী থেকে চুনারুঘাটগামী বালুবোঝাই একটি ট্রলি আটক করেন হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্য ফজলুল করিম। পরে পুলিশ ট্রলি ও এর চালক নয়ানী গ্রামের আব্দুর রহিমকে থানায় নিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে ফজলুল করিমের সঙ্গে কয়েকজনের কথাকাটাকাটি হয়।

পরবর্তীতে রাতে ফজলুল করিম থানায় গেলে ওসি নূর আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সোহেল মিয়া, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক তালুকদার ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ তালুকদার আলোচনায় বসেন। আলোচনা চলাকালীন ফজলুল করিমের মোটরসাইকেল এক কর্মীর মাধ্যমে বাড়ি পাঠানো হয়। আলোচনার পর এনসিপি নেতা ফজলুল করিমকে পুলিশ পাহাড়ায় বাড়ি পাঠানো হয়।

ফজলুল করিম অভিযোগ করেন, সোহেল মিয়া ও মারুফের নেতৃত্বে খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন হয়। আটক হওয়া ট্রলিটি তাদেরই ছিল। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে থানা থেকে বাড়ি পাঠানোর সময় ছাত্রদলকর্মীরা তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তবে যুবদল নেতা রফিক তালুকদার বলেন, ফজলুল করিম থানায় বসে বিএনপিকে গালাগাল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল কর্মীরা তার মোটরসাইকেল আটক করে তার জিম্মায় দেন। পরে পিপি আব্দুল হাই, উপজেলা এনসিপি সভাপতি আব্দুল মালেক ও ওসি নূর আলম বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন।

ছাত্রদল নেতা মারুফ তালুকদার দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে উচ্চবাচ্য নিয়ে আলোচনার পর সমাধান হয়। বালুর ট্রলির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সোহেল মিয়া বলেন, “ফজলুল করিম আমার বেয়াই। বালুর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কেন তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বুঝতে পারছি না।”

এদিকে, ট্রাফিক পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্রলিটি থানায় ছিল। কাগজপত্র না থাকায় ট্রাফিক আইনে চালকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি নূর আলম বলেন, “বালুর গাড়ির বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ তার জায়গা থেকে শুধু গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা দিয়েছে।”

শ্যালো ইঞ্জিনে চালিত ট্রলির কোন বৈধতা নেই, বালুও বেআইনীভাবে তুলে আনা, তারপরও কেন শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সের মামলা দেওয়া হল? প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে খোয়াইকে বলেন, “তদবীরের কারণে অনেকসময় সঠিকভাবে আইনপ্রয়োগ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।”