বিএনপি নেতার নেতৃত্বে চলছে সিলিকা বালু লুট
মাধবপুর উপজেলার সদর, চৌমুহনী ও ছাতিয়ান ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ অন্তত ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে সিভিল প্রশাসন। গত বুধবার প্রতিটি ইউনিয়নের ভূমি সহকারি কর্মকর্তারা আলাদা তিনটি এজাহার মাধবপুর থানায় জমা দেন। এগুলোতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন চলতি বছরে চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার কোনো পাহাড়ি ছড়ায়
সিলিকা বালুর মহাল ইজারা দেয়নি। তবু মাধবপুর উপজেলার রসুলপুর ও পরমানন্দপুরে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে পাহাড়ি ছড়া থেকে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের ফলে সরু ছড়াগুলো গভীর খাদে পরিণত হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশ ও স্থানীয় জনবসতিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক খোয়াইয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সরেজমিন পরিদর্শনে ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গতকাল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামীরা হলেন- পরমানন্দপুরের মোঃ সোহেল মিয়া, আবু ছায়েদ ও শিংপুর গ্রামের আব্বাস মিয়া।
একইদিন, উপজেলার রসুলপুর এলাকায় সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চৌমুহনী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান আসামী হলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া। এছাড়া মঙ্গলপুরের সোহেল মিয়া, কমলনগরের শুভ মিয়া, একই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম, সুলতানপুরের শাকিল মিয়া এবং কালীপুরের রনি মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আসামীরা সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন। এ সময় ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁরা পালিয়ে যান।
অপরদিকে, মাধবপুর উপজেলার এসএম টেক্সটাইল মিলের দক্ষিণ দিক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বাঘাসুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ২ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা থানায় দায়ের করেছেন। নামীয় আসামীরা হলেন ফয়সল মিয়া ও জসিম মিয়া।
মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুজিবুল ইসলাম তিনটি মামলার এজাহার থানায় জমা দেওয়ার বিষয়টি খোয়াইকে নিশ্চিত করে বলেন, “পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আহ্বান জানানো হয়েছে।”
মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবীর হোসেন বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় একাধিক মামলার এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
