বিপুল পণ্য আটক হলেও অধরা চোরাকারবারী!

বিপুল পণ্য আটক হলেও অধরা চোরাকারবারী!
বিপুল পণ্য আটক হলেও অধরা চোরাকারবারী!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর হবিগঞ্জ জেলায় ভারতীয় চোরাচালান উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। বেশিরভাগ চোরাচালানই আটক হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে।

এদিকে, এতএত চোরাচালান আটক হলেও এতে জড়িত কেউ ধরা না পড়ায় বিজিবির এসব অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে খোলাসা করে বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। তবে এক্ষেত্রে উত্তরহীন অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

বিজিবি সূত্র জানায়, চলতি মে মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭ হাজার ৬৭০ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান আটক করেছে বিজিবি। আর একবছরের হিসেব করলে পণ্য আটকের পরিমাণ বাড়বে কয়েকগুণ।

এরমধ্যে মাধপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক থেকে কয়েক কোটি টাকার পণ্য উদ্ধার করা হয়। কিন্তু যানবাহন চালক অথবা যাত্রী কেউ আটক হয়নি।

এসব অভিযানের পর বিজিবি জানায়, মহাসড়কে কৌশলগত অবস্থান নিলে ২০০ গজ দূরে যানবাহন রেখে চালক পালিয়ে যান। পরে গাড়ি তল্লাসী করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— সশস্ত্র বিজিবি সদস্যরা দলবদ্ধভাবে অভিযান পরিচালনা করলেও ২০০ গজ দূরে থেকে চোরাকারবারিরা কিভাবে পালিয়ে যায়? অন্যদিকে— অভিযান চোখে পড়ছে না স্থানীয় লোকদের।

মহাসড়কের বেশিরভাগ অভিযান মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্তরে পরিচালনা হয়ে থাকে। ওই এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘন্টা অবস্থানকারী কয়েকজন ব্যবসায়ী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা চত্তর থেকে পণ্য আটকের খবর পেলেও অভিযান দেখতে পাইনি।’

এ প্রসঙ্গে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা খোয়াইকে বলেন, ‘চলতি ট্রাকের গতিরোধ করে পণ্য উদ্ধার করলেও চালক অথবা চোরাচালানী আটক না হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের জন্ম নেওয়াটা স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে বিজিবি কর্মকর্তাদের খোলাসা করা উচিৎ।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে ৫৫ বিজিবির (হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন) লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মোঃ তানজিলুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গত কয়েকদিন ধরে কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তাঁরা অধিনায়কের অনুমতি ব্যতিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিজিবির জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে— ভারতীয় গরু, গরুর মাংশ, কসমেটিকস্, চিনি, চাল, কাপড়চোপড়, মশার কয়েল, আতশবাজি ইত্যাদি। সর্বশেষ গতকাল ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালান আটক করা হলেও ধরা পড়েনি কোন আসামী।