শ্যামলীতে ড্রেন নির্মাণের ধীরগতিতে জনদুর্ভোগ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাঁচ মাসেও মাত্র ৩৯৬ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় খানাখন্দে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন হবিগঞ্জ শহরের শ্যামলী এলাকার বাসিন্দারা। কাজের ধীরগতিতে চলাচলের অনুপযোগী জনচলাচলের সড়কও।
রাস্তার একপাশে ময়লার ভাগাড়; অন্যপাশে ড্রেন নির্মাণ কাজের ফলে তৈরী খানাখন্দে এলাকাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে।
এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে— দুর্বল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর স্থানীয়রা জানান, রিকশা চলাচল তো দূরের কথা; ভাল জামাকাপড় পরে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য।
এদিকে, প্রতিদিন শতশত স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। ময়লার ভাগাড়ের দূর্গন্ধের কারণে দম বন্ধ হয়ে আসে বলে
জানান শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন— দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে ধরে রাস্তায় চলাচল করতে হয়।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাবিবা বিনতে কুলসুমা জানায়, প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে ভাল জামাকাপড় পরিধান করে স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তার ময়লার কারণে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া রাস্তার পাশে বাসাবাড়ির ময়লার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন যদি পৌর কর্তৃপক্ষ এসব ময়লা পরিস্কার করতো তাহলে এই দুর্গন্ধ তৈরি হতো না। হাবিবার মত অসংখ্য শিক্ষার্থী ও এলাকার জনসাধারণ এমন অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পৌরসভার এসব উন্নয়ন কাজ হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকি না করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কাজের গুণগত মান নিয়েও আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ কাজ শুরু করার আগে কাজের বিবরণ দিয়ে একটা সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখার কথা, সেটা কথাও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঠিকাদার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ কথা বলে না। তিনি তার মত করে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম খোয়াইকে বলেন, চলতি বছর মার্চ মাসে এ কাজ শুরু হয়েছে। দুর্বল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ৩৯৬ মিটার ড্রেন নির্মাণ করতে পাঁচ মাস সময় লাগার কথা নয়। তারপরও আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি।
