সবুজ পাহাড়ে নাগা মরিচের রাজ্য
মোঃ মামুন চৌধুরী ॥ বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি ফয়জাবাদ হিলসের ১০ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে নাগা মরিচ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক কাজী কাউছার। চলতি বছরের মার্চে উন্নত জাতের প্রায় পাঁচ হাজার চারা রোপণ করেন তিনি। তিন মাস না যেতেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন চলছে পুরোদমে সংগ্রহ ও বিক্রি।
লেবু বাগানের ফাঁকে রোপণ করা নাগা মরিচ থেকে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কাউছার। প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে
দেড় থেকে ২ টাকায়। মৌসুম শেষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তিনি। খরচ বাদেও ভালো লাভ থাকবে বলেই মনে করছেন।
চক্রামপুর গ্রামের এই চাষি বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে পাহাড়েও সম্ভব সফলতা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেয়ে নাগা মরিচ চাষে নেমেছি। এখন সেটিই আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাহুবল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, ‘সবুজ পাহাড়ে নাগা মরিচের সফল চাষ করেছেন কাউছার। মাঝে মাঝেই তিনি পরামর্শ নেন। ফলন দেখে আমরা উৎসাহিত।’
এই বাগানে কাজ করছেন স্থানীয় শ্রমিকরাও। চা বাগানের কাজ না থাকায় এখানে এসে তারা কাজ করছেন। শ্রমিক রবি সাঁওতাল বলেন, ‘এই বাগানে কাজ করে সংসারের খরচ চালাতে পারছি।’
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নাগা মরিচ বা বোম্বাই মরিচ পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচগুলোর একটি। মূলত বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এটি বেশি হয়। এখানকার নাগা মরিচ এখন ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রচুর লেবু চাষ হয়। এখন নাগা মরিচও বাড়ছে। কাজী কাউছার ভালো ফলন পাচ্ছেন, দামও পাচ্ছেন। আগামী মৌসুমে তিনি ৫০ হাজার চারা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।’
তিনি আরও জানান, নাগা মরিচে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-এ, বি, সি, ই এবং নানা পুষ্টিগুণ। এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
