স্থবির বিআরটিএ কার্যালয়

স্থবির বিআরটিএ কার্যালয়
হবিগঞ্জ বিআরটিএর কার্যালয়

সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রশিদের অনুপস্থিতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সেবাদান কার্যক্রম। প্রায় এক মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এতে করে লাইসেন্স নবায়ন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, মালিকানা বদলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে।

এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার হাজারো গাড়ির চালক ও মালিক। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অনুমোদন না মেলায় ই-লাইসেন্স পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে রাস্তায় বের হলেই পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে, গুনতে হচ্ছে জরিমানাও।

ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে চালক-মালিকরা জানান, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ অফিসে এসে খালি হাতে

ফিরে যাচ্ছেন। কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সহকারি পরিচালকের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না। ফলে কাজ ফেলে রাখা ছাড়া উপায় নেই।

গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারি পরিচালকের কক্ষ ফাঁকা। এক কর্মচারী জানান, “স্যার নাই।” কবে আসবেন— জানেন না বলেও জানান তিনি।

ফিটনেস নবায়ন করতে আসা মাইক্রোবাস চালক দিদার মিয়া বলেন, “এক মাস হয়ে গেছে, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ফিটনেস পাচ্ছি না। বলছে- স্যার আসলে সই করে দিবেন। কিন্তু স্যার কবে আসবেন তা কেউ জানে না।”

ঔষধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “পরীক্ষায় পাস করে টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো ই-লাইসেন্স পাইনি। অফিস বলছে, লাইসেন্স না দিলে গাড়ি দিবে না।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ মে মোঃ আব্দুর রশিদ হবিগঞ্জে যোগ দেন। পরদিনই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর আর যোগদান করেননি। এরমধ্যে তিন-চারটি ড্রাইভিং টেস্ট অনুষ্ঠিত হলেও তাঁর অনুপস্থিতিতে সেগুলোর কার্যকর ফলাফল হয়নি।

সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে পুরো অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পাপিয়া আক্তার খোয়াইকে বলেন, “বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে একাধিকবার মোঃ আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মাসুদ আলমের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, ক্ষুব্দ সেবাগ্রহীতারা বলছেন, যদি দ্রুত সমস্যা সমাধান না হয়, তাহলে তারা বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।