এইচএসসি ভেন্যু

হবিগঞ্জে বন্ধ ১৮ স্কুলের ক্লাস, বঞ্চিত ১৫ হাজার শিক্ষার্থী

প্রধান প্রতিবেদক : এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে হবিগঞ্জের ১৮টি স্কুলে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এতে পাঠচ্যুতি ঘটছে অন্তত ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ— বছরজুড়ে একই সংকট চললেও নেই কোনো টেকসই সমাধান।

হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত ২০ বছর ধরে পরীক্ষা চলাকালে ক্লাস বন্ধ থাকে। জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কাজ হয়নি। এবার ভেন্যু দিতে চাইনি, কিন্তু চাপে পড়ে দিতে হয়েছে।”

জেলায় নয় উপজেলার আরও ১৭টি স্কুলেও একই অবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠান হলো— চুনারুঘাট: দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আমুরোড হাইস্কুল ও কলেজ, চুনারুঘাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; আজমিরীগঞ্জ: মিয়া ধন মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; নবীগঞ্জ: আউশকান্দি ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসা, নবীগঞ্জ জেকে উচ্চ বিদ্যালয়, ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়; লাখাই: বামৈ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়; বানিয়াচং: নাগুরা ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয়; মাধবপুর: অপরূপা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আউলিয়াবাদ রাম কেশব উচ্চ বিদ্যালয়, সাউথ কাশিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়; হবিগঞ্জ সদর: হবিগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; শায়েস্তাগঞ্জ: শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; বাহুবল: দীননাথ ইনস্টিটিউশন, মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মিরপুর দাখিল মাদরাসা।

শায়েস্তাগঞ্জে আগে জহুরচান বিবি মহিলা কলেজে পরীক্ষা হলেও বেঞ্চ সংকট দেখিয়ে এবার ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হয় শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে ওই স্কুলের ৯৫৯ শিক্ষার্থীর ক্লাস এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আবিদুর রহমান বলেন, “ভেন্যু নিতে আগ্রহ ছিল না। উপরের নির্দেশে নিতে হয়েছে। এমনকি এখান থেকে এসএসসি কেন্দ্রও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি জানান, পরীক্ষা শেষে দুপুর ২টার পর থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে দুপুরের ক্লাসে মনোযোগ কমে যায় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষকরা।
বানিয়াচংয়ের শিক্ষক মো. আব্দাল মিয়া বলেন, “বিকেলের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ক্লান্তি থাকে, মনোযোগও কম।”
বাহুবলের দীননাথ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক প্রণয় ভট্টাচার্যও একমত।

জহুরচান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বেঞ্চ সংকটের কথা বলে কেন্দ্র সরানো অযৌক্তিক। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত।”

শায়েস্তাগঞ্জের ইউএনও পল্লব হোম দাস বলেন, “চলমান পরীক্ষায় কিছু করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে শুধু পরীক্ষার জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।”

রোববার শহরের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষা শেষ হলেই গেটে তালা ঝুলিয়ে কর্মচারীরা বিদায় নিচ্ছেন।

পরিচয় গোপন রেখে এক শিক্ষক বলেন, “প্রতি বছরই ভেন্যু নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিকল্প ভবন না হলে সংকট থেকেই যাবে।”