কাঁচামরিচ চাষীদের লোকসানের শঙ্কা

কাঁচামরিচ চাষীদের লোকসানের শঙ্কা

আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বদলপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ইউনুস আলী তাঁর ৫৬ শতক জমিতে ব্র্যাক শিখা জাতের কাঁচামরিচ চাষ করেছেন। এ জমি থেকে প্রথম দফায় ৭ মণ মরিচ উত্তোলন করে বিক্রয় করেছেন।

এখন দ্বিতীয় দফার উত্তোলন চলছে। তিনি বেপারীদের নিকট প্রতিমণ কাঁচামরিচ বিক্রয় করছেন ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। আরও কয়েক দফা মরিচ উত্তোলন করে বিক্রয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে গত বছর মরিচ চাষে লাভবান হলেও এবার বীজ বপনের সময় ব্লাস্ট ও ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দেওয়ায় দু’দফায় চাষ করতে হয়েছে বিধায়—  দ্বিগুণ খরচ পড়েছে। এজন্য এবার মরিচ চাষে লোকসানের শঙ্কা করছেন ইউনুস । একইভাবে লোকসানের শঙ্কা করছেন নোয়াগাঁও গ্রামের আরও অর্ধশতাধিক কাঁচামরিচ চাষী।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর রোডের পিরিজপুর গ্রাম সংলগ্ন বোরো ক্ষেত লাগোয়া শুকনো ফসলের জমিতে অনেকে কাঁচামরিচ আবাদ করেছেন। মালিক-শ্রমিক, নারী-পুরুষ মিলে একসাথে জমি থেকে মরিচ উত্তোলনের কাজ করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৮০ হেক্টর জমিতে নানাজাতের সব্জি চাষ হয়েছে। তার মধ্যে মরিচ আবাদ করা হয় ১০ হেক্টর জমিতে।

মরিচ চাষী ইউনুছ আলী জানান, তিনি ৫৬ শতক অর্থাৎ ২ বিঘা জমি ৩০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এতে ১৫ হাজার টাকার কাঁচামরিচ বীজ বপন করেন। কিন্তু বীজগুলো চারায় রূপান্তর হওয়ার সাথে সাথে ব্লাস্ট ও ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। পরে অন্য এলাকা থেকে আরও ৯ হাজার চারাগাছ প্রতিটি ২ টাকা দরে ক্রয় করে জমিতে আবাদ করেন। পরিবারের নারী-পুরুষসহ শ্রমিকদের নিয়ে জমির পরিচর্যা করছেন। এখন পর্যন্ত ১৭ মণ মরিচ বিক্রয় করেছেন। তবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লোকসানের শঙ্কা করছেন তিনি।

একইভাবে পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের নিয়ে জমি থেকে কাঁচামরিচ উত্তোলন করছিলেন শিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, গত বছর মরিচ চাষে লাভ হয়েছিল কিন্তু এবার লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

শিহাব আরও জানান, তাঁর ২৮ শতক জমিতে ব্র্যাক শিখা জাতের মরিচ চাষ করতে ৪০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। আরও কিছু মরিচ উত্তোলন করতে পারবেন।

অপর চাষী শরীফ উদ্দিনের ৫৬ শতক জমির কাঁচামরিচ চারা প্রথম দফায় ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় চারা রোপনের পর ফের ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে তৃতীয় দফায় আবাদ করতে হয়েছে। আর কয়েকদিন পর মরিচ বিক্রয় করতে পারবেন; তিনিও লোকসানের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ মৌসুমে বাজারে মরিচের মূল্য কম ও পোকার আক্রমণ বেশি হওয়ায় খরচ বেশি পড়েছে এবং লোকসানের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন চাষী।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফে আল মুঈজ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচ আবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা আছে।