কিশোরীর জামাকাপড়ে জড়ানো কিশোর হত্যার রহস্য
বানিয়াচংয়ে নিখোঁজের একদিন পর জলাশয় থেকে সালোয়ার-কামিজ জড়ানো মাদরাসাছাত্র মঈনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার ঘটনার হত্যা মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিয়েছে।
এক মাদরাসাছাত্রী কিশোরী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কাপড়গুলো তারই- সেগুলো সে বাড়ির উঠানে শুকাতে দিয়েছিল। এখন সেই কাপড় কিভাবে নিহত মঈনুলের গায়ে গেল, তার উত্তর খুঁজছে পিবিআই।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্তভার তাদের দেওয়া হয়েছে। যেসব কাপড় নিহতের গায়ে ছিল, সেগুলো এক কিশোরী মাদরাসাছাত্রী সনাক্ত করেছে। সে জানিয়েছে, “মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন গোসল করে কাপড়গুলো উঠানে শুকাতে দিয়েছিলাম। রাতে ঘরে নিতে মনে ছিল না। সকালে দেখি কাপড়গুলো নেই।” এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি খোয়াইকে বলেন, “আমার ধারণা, হত্যাকাণ্ডের রহস্য ওই কাপড়গুলোর সঙ্গেই জড়িত। এই সূত্রে গভীরে অনুসন্ধান চালালে রহস্য স্পষ্ট হতে পারে।”
নিহত মঈনুল বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের দোয়াখানী মহল্লার বাসিন্দা। গত ২১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন দুপুরে স্থানীয়রা হাওরের এক জলাশয়ে তার মরদেহ ভাসতে দেখতে পান।
পরে ২৩ অক্টোবর নিহতের পিতা আতিকুর রহমান থানায় অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে একই এলাকার নূর আলীর ছেলে এবং নিহতের চাচাতো ভাই মোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা খোয়াইকে বলেন, “ছেলের মরদেহে মেয়ের সালোয়ার-কামিজ কেন- এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের ধারণা, এই প্রশ্নের উত্তরই হত্যার রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি।”
পিবিআই, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হায়তুন নবী বলেন, “মামলার তদন্তভার পরিদর্শক বদরুল হাসানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছেন এবং আমি-সহ আরও দু’জন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “মেয়েটির সালোয়ার-কামিজকে আমরা এখন হত্যামামলার প্রধান ক্লু হিসেবে দেখছি। আশা করি তদন্ত কর্মকর্তা শিগগিরই রহস্য উদঘাটন করে মূল হত্যাকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারবেন।”
