ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ডোবায় মিলল লাশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুর উপজেলায় স্ত্রী মাইশা আক্তারকে (১৬) হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী সোহাগ মিয়াকে (২৭) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করেছে র্যাব। সোহাগ উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল হাসিম, যিনি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। নিহত মাইশা মাধবপুর উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের বিল্লাল মিয়ার মেয়ে।
র্যাব-৯ এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগকে আটক করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
র্যাবের ভাষ্য, বছরখানেক আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কোর্টে
গিয়ে বিয়ে করেন সোহাগ ও মাইশা। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে মাইশা স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
গত ১৮ জুলাই সকালে সোহাগ তাঁর শ্যালিকাকে ফোনে জানান, মাইশা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।
চারদিন পর, ২২ জুলাই বিকেলে স্থানীয় লোকজন খবর দেন— সোহাগের বাড়ির পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচে একটি নারীর মরদেহ ভেসে আছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বিল্লাল মিয়া লাশটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।
পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, মাইশা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পুলিশ লাশের কাছ থেকে একটি মৃত ও আংশিক পচা ভ্রূণও উদ্ধার করে।
ঘটনার পরদিন মাইশার বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সোহাগসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর র্যাব ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোহাগের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
