দশ লাখের ভূমি অধিগ্রহণে বহুগুণ টাকা ‘লুট’
নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুল তথ্য দেখিয়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারের জন্য মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবির খবর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যেখানে সর্বোচ্চ এক হাজার ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা, সেখানে দেখানো হয়েছে কয়েক হাজার ফুট। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে, সচেতন নাগরিকেরা দুদকের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইংল্যান্ডপ্রবাসী মুহিবুর রহমান হারুনের মালিকানাধীন রহমান কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মহাসড়ক সম্প্রসারণে দুই শতক জমি ও প্রায় এক হাজার ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা থাকলেও জরিপে জালিয়াতি দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। সর্বোচ্চ ১০-১৫ লাখ টাকার ক্ষতি দেখানোর কথা থাকলেও দাবি করা হয়েছে কয়েক বেশি টাকা। মালিক টাকা তুলে ইংল্যান্ডে চলে গেছেন বলেও এলাকায় আলোচনা চলছে।
মিনাজপুর গ্রামের এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব ১০ লাখের জায়গায় বহুগুণ টাকা তুলে ছক্কা মেরেছেন। টাকা তুলে লন্ডনে উড়াল দিয়েছেন।”
কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপক তজমুল আলী বলেন, “মালিক টাকা তুলেছেন শুনেছি। কত তুলেছেন জানি না। তিনি এখন লন্ডনে।”
যোগাযোগের চেষ্টা করে মুহিবুর রহমান হারুনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়; হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়ও সাড়া মেলেনি।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মঈনুল হক বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তদন্ত মূল্যায়ন কমিটি যাচাইয়ের পর তাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। কত টাকা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত তথ্য। জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে।”
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি অধিগ্রহণে এমনটি হওয়ার কথা নয়।”
