সরকারি কাজের বিল প্রদানে ‘নয়ছয় প্রকৌশলী বদলী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রকল্পে কাজ হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। অথচ ৮৩ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার বিল অনুমোদনের চেষ্টা করেন উপজেলা প্রকৌশলী। আরও দুটি বিলেও দাবি করা হয় প্রায় ২৭ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাতে স্বাক্ষর না করায় বিল আটকে যায়। এরপর বদলির আদেশে হঠাৎই উপজেলা ছাড়েন প্রকৌশলী আয়েশা আক্তার।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের পিইডিপি-৪ প্রকল্পে আজমিরীগঞ্জের চারটি বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর এবং পাঁচটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও ওয়াশরুম নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঠিকাদার গোলাম ফারুককে। ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের মাঝামাঝি। এলজিইডির তথ্যমতে, জুলাই শেষে অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ। কিন্তু এপ্রিলেই ৮৩ শতাংশ কাজ হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী বিল তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিন ধাপে ৩২ লাখ টাকা তোলা হলেও ইউএনওর আপত্তিতে পরে বিল অনুমোদন আটকে যায়।

আজমিরীগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা মেলেনি প্রকৌশলীর। মোবাইলে যোগাযোগ করলে আয়েশা আক্তার বলেন, “আজকে আমার স্পেশাল ছুটি নেওয়া আছে। কবে সময় দিতে পারব, পরে জানাবো।”

এদিকে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় অব্যবহৃত পড়ে আছে একাধিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ। শিবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে জমেছে শেওলার স্তর। প্রধান শিক্ষক সোহেল চৌধুরী বলেন, “আমাকে কোনো চিঠি বা নথিপত্র দেওয়া হয়নি। শুধু একটা নকশা পেয়েছি। এতে তো কিছুই বোঝা যায় না।”

মিজাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদহীন দেয়াল আর শূন্য মাঠে পড়ে আছে টয়লেট নির্মাণের সামগ্রী। প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন জানান, “আমাদের কাজে অগ্রগতি ৫০ শতাংশের মতো। টয়লেটের কাজ একেবারেই শুরু হয়নি।”

এ অবস্থায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম মনে করেন, অতিরিক্ত বিল দিয়ে ফেললে ঠিকাদাররা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাই অগ্রগতি অনুযায়ী বিল অনুমোদনের কথাই ভাবতে হবে।

তবে ঠিকাদার গোলাম ফারুক বলেন, “ইউএনও সাইট ভিজিট করে অতিরিক্ত অংশ বাদ দিয়ে, আমি যেটুকু কাজ করেছি সেটুকুর বিল দিতে পারতেন। এটা তার নৈতিক দায়িত্ব।”

এ বিষয়ে ইউএনও নিবিড় রঞ্জন তালুকদার বলেন, “আমার কাছে যেটুকু গ্রাউন্ড রিপোর্ট ছিল, তাতে দেখা গেছে বিলের অঙ্ক অনুযায়ী কাজ হয়নি। তাই তদন্ত শেষে বিলগুলো লিখিতভাবে ফেরত দিয়েছি।”

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এ আচরণে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। কাজ অসমাপ্ত রেখেও যদি মোটা অঙ্কের বিল উপস্থাপন সম্ভব হয়, তাহলে জবাবদিহির জায়গা কোথায়? আর প্রকল্পের ভবিষ্যৎই বা কী?