সীতার হাওর লেকে পর্যটকের ঢল
আবুল কালাম আজাদ, চুনারুঘাট থেকে ॥ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি চুনারুঘাট উপজেলা। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমাকালেঙ্গা অভয়ারণ্য, পরীর বিল, শাপলা বিল, দমদমিয়া লেক, গ্রীনল্যান্ড পার্ক ও ২৩টি চা বাগানজুড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন সংযোজন হিসেবে ভাইরাল হয়েছে ‘সীতার হাওর লেক’ নামের একটি মনোরম স্থান।
গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের পারকুল চা বাগানের অন্তর্গত নাসিমাবাদ বাগানে অবস্থিত এ লেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। চা
বাগানের টিলা, সবুজ বনানী আর হাওরের পাড় ঘিরে তৈরি এই লেক যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক নিপুণ ক্যানভাস।
লেকটির জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হারুনুর রশীদ। সম্প্রতি বিকেলে নিজের বাড়ির কাছের এই লেকে ঘুরতে গিয়ে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন তিনি। মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর শুরু হয় পর্যটকের ঢল। জেলা ছাড়িয়ে বাইরের ইউটিউবার, টিকটকাররাও আসেন এই লেকের খোঁজে।
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের চারপাশে হাজারো মানুষ। কেউ ঘুরছেন চা বাগানের উঁচু-নিচু টিলায়, কেউ লেকের জলে নেমে সাঁতার কাটছেন কিংবা গোসল করছেন। অনেকে ঘোড়ায় চড়ে বেড়াচ্ছেন। লেকের পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। তবে পর্যটনের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ময়লা আবর্জনা। প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক, পানির বোতল ও প্লাস্টিক সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে লেকের পাড়ে ও বাগানের ভেতর।
স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসেছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়। কেউ কেউ দোকানিদের সচেতন করতে শুরু করেছেন, নিজের ময়লা নিজে ফেলুন বলে। দোকানগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু হয়েছে চেষ্টা।
চুনারুঘাট শহর থেকে রানীগাঁও হয়ে কিংবা মিরাশী নতুন বাজার ও আতিকপুর হয়ে সীতার হাওর লেকে পৌঁছানো যায়। তবে পর্যটকদের ঢলে বাগান কর্তৃপক্ষ কিছুটা বিপাকে পড়েছে। চা গাছ ও বাগানের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছেন। কেউ কেউ লেকে যাওয়া থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রথমবার লেকে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সত্যেন্দ্র দেব। তিনি বলেন, “এত সুন্দর একটি জায়গা এতদিন অজানাই ছিল। তবে মানুষের ভিড়ে ইতোমধ্যে বনভূমি ধূসর হয়ে উঠছে। দোকান, ময়লা— সবকিছু মিলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ না নেওয়া হয়, এই সৌন্দর্য বেশিদিন টিকবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাহুবলের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা আরেকটু উন্নত হলে আরও বেশি পর্যটক আসবেন। তবে সবচেয়ে জরুরি, পরিবেশ রক্ষা। প্রতিদিন ময়লা পরিষ্কার করতে হবে, আর দোকানি-পর্যটক— সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
