অপরাধে জড়াচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুকিশোর
প্রধান প্রতিবেদক ॥ অনুমান ১০ বছরের এক শিশু ৩০০ টাকার সওদা কিনে চারতলা একটি ভবন দেখিয়ে দোকানিকে বলে— “এখানে আমাদের বাসা; জিনিসপত্র রেখে তারপর টাকা নিয়ে আসব।”
একথা বলে শিশুটি হাঁটতে থাকে— দোকানি তখন পথের দিকে থাকিয়ে। কিন্ত ছেলেটি ওই বাসায় প্রবেশ না করে অতিক্রম করতে থাকলে চিৎকার দেন দোকানি। তারপর সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
দোকান মালিক নারী বিধায়— পিছু নিতে অক্ষম ছিলেন। একই সময়ে আরও কয়েকজন কিশোর সেখানে উপস্থিত থাকায় অন্য মালামাল খোয়া যাওয়ার শঙ্কায় তিনি আর তাড়া করেননি।
গত রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরে
পুরান মুন্সেফি এলাকায় ‘সোহান ভেরাইটিজ স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই নারী দোকানি বলেন, “প্রথমে ছেলেটিকে দেখে ভালই মনে করি; কিন্তু কৌশলে মালামাল নিয়ে পালানোর পর মনে ধাক্কা লেগেছে। এতটুকু একটা বাচ্চা এরকম করতে পারে— আমি তা ভাবতেও পারিনি।
সম্প্রতি অনুরূপ একটি চুরির দৃশ্য বাংলা নাটকে দেখার উদাহরণ টেনে পাশের দোকান ‘ডেইলি সুপার সপের’ মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের পথশিশুরা সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে অপরাধে জড়াচ্ছে। মোবাইল ফোনে নানা ভিডিও দেখে সেগুলোর অনুকরণ করছে। তারা ড্যান্ডি ও ধূমপানে আসক্ত হয়ে টাকার জন্য এমন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার দোকান থেকে কৌশলে সওদা নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ছেলেকে আটক করি। পরে বয়স বিবেচনায় ছেড়ে দিয়েছি।’
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ড্যান্ডি আসক্ত শিশুরা এরকম অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়িতে চুরি করছে। এসব শিশুদের অনেকের বাড়ি— হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই বাঁধ, হরিপুর, কামড়াপুর, গরুর বাজার ও যশেরআব্দা এলাকায়।
উত্তরশ্যামলী এলাকায় আল-আমিন স্টোরের সত্ত্বাধিকারী আল-আমিন জানান, একদল শিশু-কিশোর প্রায়ই দোকানে আসে এবং মালামাল খোয়া যায়। কয়েকটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকাও চুরি হয়েছে। এখন ওইসব শিশুকে দেখলে তারা সতর্ক থাকেন।
এই সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের ব্যাপারে ভাবতে বিলম্ব করা যাবে না বলে মন্তব্য হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (ব্যক্স) সভাপতি মোঃ সামছুল হুদা। তিনি বলেন, “শহরজুড়ে ৫০/৬০টি সুবিধাবঞ্চিত শিশু দলে দলে বিভিন্ন পয়েন্টে বসে ড্যান্ডি সেবন করে। তারা মানুষের বাসা থেকে বৈদ্যুতিক বাতিসহ নানা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এদের ব্যাপারে সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে এখনই ভাবতে হবে। তাদের পুনর্বাসণ না করলে পরবর্তীতে বড় অপরাধীতে পরিণত হবে।
