আজমিরীগঞ্জে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ইয়াবা সেবন

আজমিরীগঞ্জে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ইয়াবা সেবন
আজমিরীগঞ্জে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ইয়াবা সেবন

মোঃ আবু হেনা, আজমিরীগঞ্জ থেকে ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত মাদক ইয়াবাসেবি ও বিক্রেতার সংখ্যা। উপজেলার অনেক স্থানে এই নেশাপন্য মিলছে হাত বাড়ালেই। ধ্বংসের পথে তরুণসমাজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বপালনে ধীরগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। ইয়াবাসেবন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ছোটখাটো মাদককারবারি আটক হলেও রাঘববোয়ালেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভা এবং পাঁচটি ইউনিয়নের নদী ও স্থলপথে আজমিরীগঞ্জে ইয়াবার চালান ঢুকছে। প্রধান বাহন সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। অন্যতম রাস্তা আজমিরীগঞ্জ ভায়া শিবপাসা টু বানিয়াচং রোড, শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর-পাহাড়পুর নদীঘাট, শাল্লা-পিরিজপুর নদীঘাট, ইটনা উপজেলার জনতাগঞ্জ বাজার নদীঘাট ও বড়বাড়ি-রনিয়া নদীঘাট।

এছাড়াও নবীগঞ্জ-মার্কুলি রোডে বদলপুরের— পাহাড়পুর বাজারে ইয়াবা আসছে। বানিয়াচং উপজেলার ২টি স্পট থেকে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, জলসুখা ও শিবপাশার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মাদক আমদানী করেন।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় আজমিরীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল রোডে এক মাদককারবারির ঘরে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। তবে সেখানে ৯৪ হাজার টাকা পেলেও কোন মাদক পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যায় ওই মাদককারবারি। তার টাকা পুলিশ ফেরৎ দিয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, লঞ্চ টার্মিনাল রোডে মাদকের ছড়াছড়ি বেশি। মাদকসেবীরা রোজ সেখানে ভিড় করছে। এসময় ডেলিভারি কাজে ১২-১৩ জন শিশুকে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

সন্ধ্যায় কাকাইলছেও রোড, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে, বাঁশ মহল রোড, মুন সিনেমা হলের সামনে থেকে পাহাড়পুর রোড, শরীফনগর নতুনবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের আশেপাশে বেশি মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

এক ইয়াবা কারবারির ভাষ্য— “নিজের সুরক্ষার জন্য সাথে সবসময় দুই লাখ টাকা রাখি, আমার কিছুই হবে না।”

এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা যেখানে মাদকের খবর পাই সেখানেই অভিযান পরিচালনা করি। কয়েকদিন আগে মাদক উদ্ধার করেছি, তবে বিক্রেতারা অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায়।”