কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত
মোঃ আবু হেনা, আজমিরীগঞ্জ থেকে ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দীঘলবাগ ও নোয়াহাঠি গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার হাজারো মানুষ।
রাস্তাটি প্রায় পনেরো বছরেরও আগে কেয়ার নামক একটি এনজিও নির্মাণ করে দিয়েছিল। এত বছরেও কাঁচা রাস্তাটিতে ইট-সিমেন্টের ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর বাজার থেকে দীঘলবাগ ও নোয়াহাঠি গ্রামের একমাত্র রাস্তাটির প্রবেশমুখ কাদায় একাকার। কিছুদূর যাওয়ার পর সামান্য ভালো হলেও তারপর থেকে দীঘলবাগ গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বিকল্প কোনো পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষকে। বছরের প্রায় চার-পাঁচ মাস ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রামবাসীকে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। এই এলাকার মানুষের আতঙ্ক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটুসমান কাদা। কাদার কারণে গ্রামের এ রাস্তায় কোনো যানবাহন ঢোকে না। খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। কখন যে কাদায় পড়ে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা বলেন, এই রাস্তাটি সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি জনপ্রতিনিধিদের। প্রতি বছরই বৈশাখ মাসে বোরো ধান তোলার পর আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে রাস্তার গর্ত পূরণের জন্য ট্রলি দিয়ে মাটি ফেলি।
স্থানীয় বাসিন্দা জগন্নাথ চন্দ্র দাস, পরিতোষ দাস ও গণেশ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কার কাছে বলব? আমাদের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না। প্রতিদিনই চেয়ারম্যান ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, নিজ চোখে দেখতে পান আমাদের দুর্ভোগ। আমরা ঠিকমতো হাটবাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টি-কাদার দিনে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে এক কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কতকাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে।
সুশীল দাস বলেন, মেম্বার-চেয়ারম্যানরা যদি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা বুঝতেন তাহলে এই রাস্তা আরো আগেই হতো। প্রশেনজিৎ দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘাঁ হয়ে যায়। তখন চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ওই গ্রামগুলোর প্রধান সমস্যা হলো রাস্তা। প্রায় পনের বছর আগে কেয়ার নামক এনজিও রাস্তাটি নির্মাণ করেছিল। তারপর থেকে ওই রাস্তায় সরকারিভাবে কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিষদে কাবিখা, টি-আর বরাদ্দ আসে অল্প। তার মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডেই কাজ করতে হয়। ওই রাস্তাটি অনেক বড় বিধায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বদলপুর ইউপি চেয়ারম্যান শুশেনজিৎ চৌধুরী বলেন, এই রাস্তাটি খুবই প্রয়োজন। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
