দাখিলে সিলেটের সেরা তবু অনুমোদনহীন!
এমএ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ থেকে ॥ সিলেট বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল করেও এখনও সরকারি অনুমোদন পায়নি নবীগঞ্জের দক্ষিণ দৌলতপুর হযরত শাহজালাল লতিফিয়া আইডিয়াল মাদ্রাসা। ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি এক যুগে পা দিলেও এখনও চলছে পাশের রুস্তমপুর নয়মৌজা সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছায়াতলে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মুজিবুর রহমান বলেন, “প্রতি বছর আমরা সেরা হই, কিন্তু কাগজে স্বীকৃতি পাই না। নিজের নামে অন্যের গীত গাই— এটাই সবচেয়ে কষ্টের।”
চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় ২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন পেয়েছে
এ-প্লাস, যার মধ্যে তিনজন গোল্ডেন। শতভাগ পাসের এ কৃতিত্ব কাগজে রুস্তমপুর মাদ্রাসার হলেও বাস্তবে তা দক্ষিণ দৌলতপুর লতিফিয়া মাদ্রাসার।
আউশকান্দি ইউনিয়নের গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা চারতলা ভবনের এ মাদ্রাসায় বর্তমানে ৫৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৭০ জন হিফজ বিভাগে। রয়েছে আবাসিক ব্যবস্থাও। ৬ একর জমির ওপর বিস্তৃত মাদ্রাসাটিতে ২৮ জন শিক্ষক পাঠদান করছেন।
প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ ও ভুমিদাতা সদস্য মোঃ কুদ্দুছ মিয়া জানান, শুরুতে ৪০ শতক জমিতে মাদ্রাসা চালু হলেও এখন ১৮০ শতকে উন্নীত হয়েছে। প্রবাসী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চারতলা ভবনে আবাসিক ব্যবস্থাপনায় চলছে পাঠদান।
পরিচালনা কমিটির সদস্য হাজী বাছিত মিয়া বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে পাঠদান করেন বলেই প্রতি বছর আমরা উপজেলায় সেরা হই। এবার সিলেটেরও সেরা হয়েছি।”
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সব কাগজ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান অধ্যক্ষ। তাঁর আশা, “দ্রুতই সরকারিভাবে নিবন্ধন মিলবে।”
এদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলার ১৭টি অনুমোদিত মাদ্রাসার ফল এবার আশানুরূপ হয়নি। শিক্ষকরা মনে করছেন, প্রশ্নপত্র কাঠামো ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনই এর অন্যতম কারণ।
