ধান-আতপ সংগ্রহে গতি, পিছিয়ে সেদ্ধ চাল

ধান-আতপ সংগ্রহে গতি, পিছিয়ে সেদ্ধ চাল
ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকরা

প্রধান প্রতিবেদক ॥ হবিগঞ্জে সরকারি গুদামে আশানুরূপভাবে বোরো ধান ও আতপ চাল সংগ্রহ হলেও সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ। কারণ— অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বাজার দর উঠানামার ফলে পরিমিত সরবরাহ করতে পারেননি মিল মালিকেরা। তারপরও চেষ্টা চলছে— বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এই সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার।

গত বোরো মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলা থেকে ৮ হাজার ৭২০ টন ধান, ১৯ হাজার ২৯৭ টন সেদ্ধ চাল এবং ৪ হাজার ৮৭৯ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেয় জেলা খাদ্য বিভাগ। মূল্য নির্ধারণ করা হয়— ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা ও আতপ চাল ৪৮ টাকা।

গত ২৪ এপ্রিল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে— ধান ৭ হাজার ১০৩ টন, সেদ্ধ চাল ৯ হাজার ৮৩৭ টন এবং ৩ হাজার ৬৫০ টন আতপ চাল।

আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত ধান ও দুই প্রকার চাল মিলে সর্বমোট ৩২ হাজার ৮৯৬ টন সংগ্রহ করার কথা। তবে গতকাল পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২০ হাজার ৫৯০ টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহের হার ধান ৮১ শতাংশ, সেদ্ধ চাল ৫১ শতাংশ ও আতপ চাল ৭৫ শতাংশ।

আগে থেকেই নির্ধারিত জেলার ১০টি মিল থেকে সেদ্ধ চাল, ৪৩টি মিল থেকে আতপ চাল এবং লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষন করে দেখা যায়, সময়ের বিবেচনায় ধান ও আতপ চাল আশানুরূপভাবে সংগ্রহ হলেও সেদ্ধ চাল সংগ্রহে পিছিয়ে রয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বাজারে দামের উঠানামার কারণে মিল মালিকেরা সঠিকভাবে সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করতে পারেননি। এছাড়া এবার সরকার ধান সংগ্রহের বিষয়ে অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যোতি বিকাশ ত্রিপুরা খোয়াইকে বলেন, “এবার জেলা প্রশাসক স্যার উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী ধান সংগ্রহে অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এতে আমরা সফলতা অর্জন করেছি। আশা করছি আগামী আগস্টের মধ্যে সেদ্ধ চাল সংগ্রহও লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাব। এক্ষেত্রে যেসব উপজেলা থেকে তুলনামূলক বেশি চাল সংগ্রহ হয়েছে সেখানকার লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।”