হবিগঞ্জ শিল্পকলায় প্রশিক্ষণ বন্ধ, অনিশ্চয়তায় ৭০০ শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জ শিল্পকলায় প্রশিক্ষণ বন্ধ, অনিশ্চয়তায় ৭০০ শিক্ষার্থী
হবিগঞ্জ শিল্পকলায় প্রশিক্ষণ বন্ধ, অনিশ্চয়তায় ৭০০ শিক্ষার্থী

সৈয়দ সালিক আহমেদ: হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাচ, গান, অভিনয়, চিত্রাঙ্কনসহ ছয়টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পড়েছে অনিশ্চয়তায়। প্রশিক্ষকদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে গেছে একাডেমির সব কার্যক্রম।  নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

জেলা কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা খোয়াইকে জানান, “৩১ জুন প্রশিক্ষকদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে, এতে দুই মাস সময় লাগতে পারে।”

তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়াতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মতে, কালচারাল অফিসার আগেভাগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে নতুন নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া যেত এবং একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ হতো না।

এক অভিভাবক বলেন, “যদি আগেই প্রক্রিয়া শুরু হতো, তাহলে আজ ক্লাসরুমগুলো ফাঁকা হয়ে যেত না।”

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। গত ছয় মাসে কোনো মতবিনিময় সভাও হয়নি।
হঠাৎ একটি নোটিশ ঝুলিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াকে তারা দেখছেন ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে।

তাদের প্রশ্ন, “একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যদি এমন অবহেলাকারীর হাতে চলে যায়, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কে দেখবে?”

তবে এ বিষয়ে জ্যোতি সিনহা বলেন, “হবিগঞ্জে কর্মস্থল হলেও সিলেটেও দায়িত্ব রয়েছে। সেখানকার কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় হবিগঞ্জে নিয়মিত থাকতে পারিনি।”

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘আওয়ামী সমমনা’ হিসেবে পরিচিত কিছু প্রশিক্ষক ও কর্মীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন হয়। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক হয়ে কেন্দ্রীয় শিল্পকলা একাডেমিকে জানানো হলে নির্দেশনা আসে— চলতি মেয়াদ শেষে নতুন নিয়োগ দিতে হবে।