পিতার কিডনিতেও বাঁচল না অনিক

পিতার কিডনিতেও বাঁচল না অনিক
পিতার কিডনিতেও বাঁচল না অনিক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছেলের প্রাণ বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন ৫৮ বছর বয়সী পিতা। চিকিৎসকেরাও বলেছিলেন, অস্ত্রোপচার সফল। তবু শেষরক্ষা হলো না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বানিয়াচং উপজেলার নয়া পাথারিয়া গ্রামের তরুণ অনিক মিয়া।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২২ বছর বয়সী এই যুবক। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভগ্নিপতি মোঃ মুসাউল আলম।

মুসাউল আলম জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর অনিক ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু ৮ জুলাই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

অনিক মিয়া বানিয়াচং উপজেলার নয়া পাথাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা তাহির মিয়া একজন কৃষক। মায়ের মৃত্যু ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনিক নবম শ্রেণির পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।

প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে কিডনির সমস্যার কথা জানতে পারেন অনিক। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম খুরশিদুল আলমের পরামর্শে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, বাবার কিডনি ছেলের শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তাহির মিয়ার একটি কিডনি অনিকের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অনিকের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, সুস্থ হতে অনিককে আরও অন্তত তিন মাস নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু তা আর হল না।

তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে অনিক ছিলেন তৃতীয়। ভগ্নিপতি মুসাউল আলম বলেন, ‘তাহির মিয়া বলতেন— আমার প্রাণ গেলে যাক, আমি আমার ছেলেকে জীবিত দেখতে চাই।’