মৃত্যু দেখিয়ে ‘দাফন’ ॥ ১৭ দিন পর উদ্ধার কিশোর

মৃত্যু দেখিয়ে ‘দাফন’ ॥ ১৭ দিন পর উদ্ধার কিশোর
মৃত্যু দেখিয়ে ‘দাফন’ ॥ ১৭ দিন পর উদ্ধার কিশোর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মৃত্যু দেখিয়ে রবিউল ইসলাম নাঈম (১৪) নামে এক কিশোরকে দাফনের ১৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় তার আত্মীয় বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের স্বজনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার ওসি মোঃ ওমর ফারুক জানান।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ব্রাহ্মণ গ্রাম এলাকায় বুলবুল

ফকিরের রেস্তোরাঁয় কাজ করত।

এ ঘটনায় কিশোরের মায়ের করা হত্যা মামলায় এখন কারাগারে আছেন রেস্তোরা মালিক। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বাসিন্দা।

কুলাউড়া থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, “ওই কিশোর আত্মগোপনে ছিল। তার পরিবারের সদস্যরাই তাকে জীবিত পেয়ে আমাদেরকে খবর দেন। আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে আদালতে পাঠিয়েছি।

“আগের লাশ ও দায়ের করা মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি লাশ পাওয়া গিয়েছিল। পরে শনাক্ত করে কিশোরের পরিবার লিখিত দিয়ে লাশ গ্রহণ করে দাফন করেছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই কিশোর ২৪ জুলাই হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। তারপর তার মা নিখোঁজ ছেলের ব্যাপারে ওসমানীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার হয়। সেই লাশটি ওই কিশোরের বলে শনাক্ত করে পরিবার। পুলিশের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের পর ৫ আগস্ট দাফন করা হয়। তারপরই হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান গতকাল শনিবার কিশোরকে তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়।

কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত করতে গিয়ে বিষয়টি বেরিয়েছে। আদালতে কিশোরের মা এবং মামা রয়েছেন।”