মোরগের খামারে ধরা পড়া ভারতীয় গোখরা অবমুক্ত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলায় মোরগের খামারে ধরা পড়া একটি ভারতীয় গোখরা সাপ (ঘধলধ হধলধ) চিকিৎসার পর অবমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে সাপটিকে উপজেলার মুছাই পাহাড় এলাকায় ছেড়ে দেন বন্যপ্রাণীপ্রেমী রবি কস্তা।
এর আগে গত ১৯ জুন মুছাই ফলের আড়ৎ সংলগ্ন একটি মোরগের খামারে সাপটি দেখতে পান খামার মালিক সাজিদ চৌধুরী। পরে স্থানীয় পরিবেশকর্মী রবি কস্তা সাপটি জীবিত ধরে ফেলেন।
রবি কস্তা বলেন, “সাপটির কোমরে সামান্য আঘাত ছিল। ৫ দিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেছি। পরে বন বিভাগের পরামর্শে সেটিকে পাহাড়ে ছেড়ে দেই। বন উজাড় আর পরিবেশ ধ্বংস অব্যাহত থাকলে এমন বিরল প্রজাতির সাপ আরও হুমকিতে পড়বে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় গোখরার প্রধান বৈশিষ্ট্য এর গলার পেছনে চশমার মতো ফোঁটা। রাগান্বিত হলে সাপটি মাথা চ্যাপ্টা করে ফোলায় এবং দেহ উঁচু করে দাঁড়িয়ে পড়ে। গায়ের রঙ গাঢ় বাদামি বা কালচে, দেহজুড়ে ফোঁটা বা দাগ থাকে। সাধারণত এই প্রজাতির দৈর্ঘ্য ১.৫ থেকে ১.৮ মিটার হলেও বড় গোখরাগুলোর দৈর্ঘ্য ২ মিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিষধর এ সাপ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। সাধারণত ইঁদুর, ব্যাঙ, ছোট সাপ প্রভৃতি খেয়ে বেঁচে থাকে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এদের আবাসস্থল।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের বিষধর সাপ নিজেরা আক্রমণ করে না। তবে ভয় পেলে বা বিরক্ত করা হলে প্রতিরক্ষামূলকভাবে আক্রমণ করতে পারে। তাই সাপ দেখতে পেলেই বনবিভাগের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা জরুরী।
