রাজাবিহীন রাজ প্রাসাদ
লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের মোড়াকরি গ্রামের একপাশে প্রকৃতিঘেঁরা পরিবেশে অবস্থিত জমিদারবাড়ি। গ্রামবাংলার মাঝে এরকম একটা জমিদারবাড়ি সত্যিই দারুণ। বিশেষ করে এ জমিদারবাড়িটির প্রবেশ তোরণ, মূল বাড়ি, পুজো ঘর, পুকুরঘাট দেখলেই যেকোনো দর্শনার্থীর চোখ জুড়িয়ে যাবে। বাড়িটির নকশা, শৈল্পিক কারুকাজ এবং শানবাঁধানো ঘাটের আদল দেখলেই মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মন চলে যাবে সেই জমিদারির সময়কালে।
নগর জীবন থেকে বেরিয়ে যদি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চান বা বাংলার প্রকৃতি ও ঐতিহ্য দেখতে চান তাহলে একদিনের ভ্রমণে ঘুরে আসতে পারেন এই জমিদার বাড়িটিতে। আঠারো শতকের দিকে গড়ে ওঠে এই বাড়ি।
মোড়াকরি যাওয়ার পথে আপনি আরও চোখজুড়ানো প্রকৃতি দেখতে পারবেন। যেতে যেতে রাস্তার দুই পাশে বিশাল হাওর। সোনালি প্রান্তর মন ভোলাবে।
মোড়াকরি গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত জমিদারবাড়িটি। রাসবিহারী সাহার এ বাড়িটি নির্মাণ হয় প্রায় ১৫০ বছর আগে। এই জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করার জন্য প্রথমে ফটক রয়েছে। ভিতরে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো কিছু পুরাতন অট্টালিকা বা প্রাসাদ রয়েছে। মূল প্রবেশদ্বার বা প্রবেশ তোরণের বাহিরে রয়েছে পাকা সিঁড়ি। যেখান দিয়ে নেমে জমিদার পরিবারের সদস্যরা পুকুরে গোসল করতেন। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে পানি পান করার জন্য কোয়া বা পুকুর ব্যবহার করতেন তারা।
বর্তমান আধুনিকযোগে এইসব কথা যেন রূপকথার গল্পের মতো মনে হয়। রাসবিহারী সাহা এবং লোকনাথ রায় জমিদার ছিলেন ঠিকই, কিন্তু এখন দেখলে মনে হবে রাজাবিহীন এক রাজ প্রাসাদ। আপনারা গিয়ে এক নজর দেখে আসতে পারেন। তবে বিশেষ করে বাড়িটি আজ সংস্কারের অভাবে দিন দিন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে যদি সরকারের প্রত্ন অধিদপ্তর এর দায়িত্ব নেয়, তাহলে হয়তো এই পুরোনো রাজবাড়িটি কিছুটা আগের রূপ ফিরে পাবে এবং সৌন্দর্যে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। যদিও বাড়িটিতে প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে জমিদারবাড়ির উদ্দেশ্যে গেলে আরও কিছু দেখতে পারবেন। যেমন- বাগানবাড়ি, বলভদ্র সেতু।
