রাতের আঁধারে হবিগঞ্জে ঢুকছে ‘অবৈধ অটোরিকশা’

রাতের আঁধারে হবিগঞ্জে ঢুকছে ‘অবৈধ অটোরিকশা’
ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা

সৈয়দ সালিক আহমেদ ॥ গত সাতদিনে হবিগঞ্জ শহরে পাঁচ শতাধিক অবৈধ অটোরিকশা এসেছে। সিলেট শহরে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানের পর রাতের আঁধারে এ সকল অটোরিকশা ট্রাকযোগে হবিগঞ্জ শহরে এসেছে বলে জানা গেছে।

এসব অটোরিক্সার মালিক হচ্ছেন কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দারাÑ যারা দীর্ঘদিন থেকে সিলেট শহরে অটোরিকশা চালিয়ে আসছেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সিলেট শহরে পুলিশের কড়াকড়িতে চলতে না পেরে দলে দলে হবিগঞ্জে চলে এসেছেন তাঁরা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। এমনিতেই সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শহরে চার হাজারের অধিক ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, অচিরেই কিছুসংখ্যক অটোরিকশাকে নম্বর প্লেইট দেওয়া হবে, তারপর যেসকল অটারিকশা পাওয়া যাবে সেগুলোকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটক করা হবে।

সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ থেকে সিলেট শহরে ব্যাটারীচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এসব অভিযানের ফলে সেখানে কোনভাবে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারছে না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে হবিগঞ্জ শহরে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচলে কোন বাঁধা নেই। তাই তাঁরা দলে দলে গত এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাতে ট্রাকযোগে এসব অটোরিকশা হবিগঞ্জে নিয়ে আসেন। এতে করে শহরে যেমন যানজট বেড়েছে তেমনি জনভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকেÑ সরেজমিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, এসব ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ব। দল বেঁধে বিভিন্ন পয়েন্ট, অফিস আদালতের সামনে বসে থাকেন তাঁরা। এছাড়া যাত্রীদরে কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এমন একাধিক ব্যক্তি এসব অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের তাঁরা বেশী টার্গেট করে।

যাত্রীরা বলছেন, যেহেতু পৌর এলাকার ব্যাটারী চালিত রিকশা ভাড়ার কোন চার্ট নেই সেহেতু রিকশায় উঠার আগে ভাড়ার কথা বললে চালকরা বলে আগে উঠেন, ভাড়া নিয়ে সমস্যা হবে না। তারপর গন্তব্যে পৌঁছে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে জোর জবরদস্তি করে এসব চালকরা।

এদিকে, ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা সমিতির নেতারা বলেন, আমাদের সমিতির অধীনে শহরে যেসকল অটোরিকশা চলাচল করে এগুলোর একটি সিরিয়াল নম্বর দেওয়া আছে। এর বাইরে যেসকল রিকশা চলচাল করে সেগুলো বহিরাগত এসেছে।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, অচিরেই কিছুসংখ্যক অটোরিকশাকে নম্বর প্লেইট দেওয়া হবে, তারপর যেসকল অটারিকশা পাওয়া যাবে সেগুলোকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটক করা হবে। এছাড়া শহরে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারীচালিত টমটমকে শঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হবে।