শিক্ষার্থীদের পাঠদান হবিগঞ্জে দাপ্তরিক কাজ অন্য জেলায়
নবীগঞ্জের প্রায় চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মৌলভীবাজারের নিয়ন্ত্রণাধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লোগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক এলাকা নবীগঞ্জ হলেও মৌলভীবাজার শিক্ষা অফিসের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।
জানা যায়, গত শতকে হবিগঞ্জ মহকুমার নবীগঞ্জ থানার দিনারপুর পরগনার লোগাঁও এবং কায়স্থগ্রামে দুই প্রভাবশালী জমিদারের বংশধররা বসবাস করতেন। কায়স্থগ্রামের জমিদার মনোরঞ্জন ধর ১৯১৮-১৯ সালে তাঁর গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী লোগাঁওয়ে
জমিদার ভারত চন্দ্র দত্তের ভাতিজা বারীন্দ্র চন্দ্র দত্ত তাঁর বাড়িতে আরও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একেবারে পাশাপাশি আরও একটি বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সময় একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা কৌশল অবলম্বন করে নবীগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়নের লোগাঁওয়ের একটি অংশকে মৌলভীবাজারের আথানগিরি পরগনায় দেখিয়ে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি নেন। এরপর মৌলভীবাজার শিক্ষা অফিসের নিয়ন্ত্রণে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় লোগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই থেকে নবীগঞ্জের এ বিদ্যালয়টি মৌলভীবাজারের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেষ প্রান্ত থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে লোগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। নবীগঞ্জের চারটি গ্রামের শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে। ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়টির অবস্থান অনুযায়ী হবিগঞ্জের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সেটা মন্ত্রণালয়ে আটকে গেছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা বেগম, শ্রাবণ রায়, শ্রেষ্ঠ আচার্য জানায়, তাদের বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। কিন্তু জেলা পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে তাদের বহু দূরে মৌলভীবাজারে যেতে হয়।
কাপ্তান তালুকদার নামে এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্মসনদ, টিকা কার্ডসহ সবকিছুতে নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ লেখা। কিন্তু প্রাইমারি স্কুলের সনদপত্রে লেখা মৌলভীবাজার। এতে তাদের সন্তানদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার থেকে নিয়োগকৃত তিনজন শিক্ষকই ওই জেলা সদর থেকে যাতায়াত করেন। গ্রামীণ জনপদের দূরে রাস্তা পাড়ি দিয়ে যথাসময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারেন না তারা। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম বিঘœ ঘটছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশু চক্রবর্তী জানান, তিনি ২০২০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এ বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করছেন। এ বিদ্যালয়ে আসতে প্রতিদিন তাঁকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যাতায়াত করতে হয়। এতে কষ্টের সীমা থাকে না। এভাবে প্রতিদিন যাতায়াতে বেতনের বড় একটা অংশ খরচ হয়। ভোগান্তি নিরসনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন।
মৌলভিবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন তিনি।
