সন্ধ্যা নামলেই যানজটে অচল হবিগঞ্জ শহর
প্রধান প্রতিবেদক ॥ সন্ধ্যা নামার পরপরই যেন স্থবির হয়ে পড়ে হবিগঞ্জ জেলা শহর। চৌধুরীবাজার, বাদিউজ্জামান রোড, কালীবাড়ি মোড়, কলাপাতা মোড় কিংবা টাউন হল রোড— সবখানেই একই চিত্র: টমটম আর মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পরিণত হয় যান চলাচল।
রবিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, চৌধুরীবাজার থেকে থানা মোড় পর্যন্ত মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় ৪৫ মিনিট। রাস্তার দুই পাশ জুড়ে সারি সারি ইজিবাইক, অটোরিকশা আর মোটরসাইকেল। কোথাও তিন সারি, কোথাও চার। তবে চরম দুর্ভোগ বাড়ায় একটিই বিষয়— ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতি।
মূল সড়কে যেখানে-সেখানে উঠে আসে আশপাশের পাঁচটি ক্রস রোড থেকে ইজিবাইক-অটোরিকশা। ফলে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে যানবাহনের এক বিশৃঙ্খল বলয়।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ শহরে টমটম চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৩০০টির মতো। অথচ বাস্তবে চলছে ৪ হাজারের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, অনুমতিবিহীন এসব ইজিবাইক পৌর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই নির্বিঘেœ চলাচল করছে।
টাউন হল রোড থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কে চোখে পড়ে শত শত টমটম— যেন একটি চলন্ত টমটমের রেলগাড়ি। দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব যানবাহনের কারণে মাঝখানের রাস্তা দিয়ে আর কোনো যানবাহন চলতেই পারে না।
এছাড়া তিনকোনা পুকুর পাড়, সবুজবাগ, এমএ মোতালিব চত্তর, পুরাতন হাসপাতাল, খোয়াই ব্রিজ— সবখানেই সারাদিনজুড়ে একই চিত্র। শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তা চৌধুরী বাজারে যেখানে হেঁটে ১৫ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব, সেখানেই ইজিবাইকে সময় লেগে যায় আধাঘণ্টারও বেশি।
রাজনগর এলাকার বাসিন্দা রিপন আহমেদ বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই মনে হয়, শহর নয়, টমটমের রাজ্য। দুর্ঘটনাও হচ্ছে অহরহ।’
টাউন হল রোডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি টমটমই ফাঁকা চলে, তবুও রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় সারাদিন। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।’
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের মূল সড়কে চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পথচারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।
