হবিগঞ্জে পূজোর বাজার মন্দা

হবিগঞ্জে পূজোর বাজার মন্দা
হবিগঞ্জে পূজোর বাজার মন্দা

নজরুল ইসলাম ॥ দুই ঈদ ও দুর্গাপূজা- হবিগঞ্জ শহরের কাপড় ব্যবসার প্রধান তিন মৌসুম। কেনাবেচার জন্য ব্যবসায়ীরা এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু এবার দুর্গাপূজার বাজারে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। দৃশ্যপট পাল্টে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

বস্ত্র ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, জেলা শহরের নামকরা কয়েকটি দোকান বাদে ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী দুঃসময় পার করছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কেনাবেচা অন্তত ২৫ শতাংশ কমেছে। ফ্যাশনের দৌরাত্মে পিছিয়ে থাকা, ছাড়ের প্রতিযোগিতা ও কাপড়ের নামে বিভ্রান্তিসহ নানা কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকেই ঋণের বোঝা টানছেন।

গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের ঘাটিয়া এলাকার এসডি স্টোরে গিয়ে দেখা যায় অর্ধশতাধিক ক্রেতার ভিড়। নীচতলায় বেশিরভাগ ক্রেতা শাড়ি কিনছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, কেউ কেউ বিয়ের বাজারও করেছেন।

আল নূর সিটি, সুলভ বস্ত্রালয়, এসডি প্লাজাসহ বড় কয়েকটি দোকানে একইভাবে ভিড় দেখা গেলেও আশপাশের ছোট দোকানগুলোতে তেমন বেচাকেনা হয়নি। এসডি স্টোরের মালিক শুভ রায় জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের পূজোয় অন্তত ২৫ শতাংশ বিক্রি কমেছে। তাঁরা টালমাটাল, কাঞ্চিবরণ গুজরাটি সিল্ক শাড়ি ও অরগেঞ্জা প্রদর্শনে জোর দিচ্ছেন।

এসডি স্টোরের বিপরীতে একটি ছোট দোকানের ব্যবসায়ী খোয়াইকে বলেন, দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়েছে। চারজন কর্মচারি খাটিয়ে মাস শেষে লোকসান গুনতে হবে। আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীও একই পরিস্থিতির কথা জানান।

ছাড়ের ছড়াছড়িতে অধিক মুনাফা করছে অনেক ফ্যাশন শোরুম।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে ৫০ শতাংশ ছাড় চলছে। জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন শোরুমের ম্যানেজার খোয়াইকে বলেন, ‘‘অনেক শোরুমে ফ্ল্যাট ৭০ শতাংশ ছাড় লেখা থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলো ছাড়ের বাইরে। এটি একধরনের প্রতারণা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজর দেওয়া উচিত।’’

হবিগঞ্জ বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০০। এর বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি শোরুমসহ আরও অন্তত ৫০টি দোকান রয়েছে। এ সাড়ে তিনশ ব্যবসায়ীর মধ্যে ১০Ñ১২ জন ভালো বিক্রি করছেন, বাকিরা লোকসানে।

এসডি প্লাজার মালিক শংকর দাস বলেন, ‘‘ছোট একটি দোকান চালাতেও কয়েকজন কর্মচারি লাগে। ভাড়া, বিদ্যুৎ, বেতনসহ সব খরচ মেটাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে অধিকাংশই ঋণগ্রস্ত। প্রায় ১০ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে, সম্প্রতি তা আরও প্রকট হয়েছে।’’

সমিতির দাবি, বাজারে দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অধিকাংশ ব্যবসায়ী। নিত্যনতুন ফ্যাশনের জামা আমদানি করতে না পেরে তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন।

সমিতির এক নেতা জানান, হবিগঞ্জ শহরের অনেক ব্যবসায়ী শাড়িÑ জামার সঙ্গে বিভিন্ন তারকার নাম জুড়ে দেন। এতে ক্রেতারা আকৃষ্ট হলেও আসলে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের নাম দেয় না। স্থানীয়ভাবে প্রচার করা এসব নামেই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।