হলুদ ক্ষেতে মাচায় চাল কুমড়া ও শিম চাষে সফলতা

হলুদ ক্ষেতে মাচায় চাল কুমড়া ও শিম চাষে সফলতা
হলুদ ক্ষেতে মাচায় চাল কুমড়া ও শিম চাষে সফলতা

মোঃ মামুন চৌধুরী ॥ বাহুবলের ভৈরভীকোনা গ্রামের কৃষক মোঃ আরফান আলী একই জমিতে হলুদের সঙ্গে মাচায় চাল কুমড়া ও শিম চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন।

সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া হলুদ প্রদর্শনী প্লটেই এই সাফল্য এসেছে। প্রায় ৩০ শতক জমিতে প্রথমে উন্নত জাতের হলুদ রোপণ করেন আরফান। পরে গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাচা করে চাল কুমড়া ও শিমের চাষ শুরু করেন। এখন শিম ও চাল কুমড়ার বিক্রি চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে হলুদ উত্তোলন করে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে গেলে আরফান আলী বলেন, বাড়ির পাশের জমিতে

আগে ফসল ফলাতেন, কিন্তু আশানুরূপ লাভ হতো না। এ বছর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীমের পরামর্শে মে মাসে হলুদ চাষ শুরু করেন, পরে যুক্ত করেন চাল কুমড়া ও শিম।

চাল কুমড়া ও শিম বিক্রি থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি। হলুদ বিক্রি করে আরও ৯০ হাজার টাকা আসবে বলে ধারণা। তিন ফসলের খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৭০ টাকায়।

স্থানীয় কৃষক জুয়েল মিয়া, আজাদ মিয়া ও সাদেক মিয়া বলেন, চেষ্টা করলে সফলতা আসে। আরফান আলী একসঙ্গে তিন ফসল চাষ করে তা প্রমাণ করেছেন। তার সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আমরাও মিশ্র ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছি এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিচ্ছি।

শামীমুল হক শামীম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আরফান আলী হলুদ প্রদর্শনী প্লটে সাথী ফসল হিসেবে চাল কুমড়া ও শিম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। অনেক কৃষকই এখন আমার পরামর্শে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, জমির পরিমাণ কমলেও ফসল বাড়ানোর উপায় হচ্ছে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ। এই পদ্ধতিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এর সফল উদাহরণ ভৈরভীকোনার কৃষক আরফান আলী। তিনি হলুদের সঙ্গে চাল কুমড়া ও শিম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন, এতে তিনি যেমন খুশি, তেমনি উৎসাহ পাচ্ছেন অন্যরাও।