৮২ লাখ টাকার ইটসলিং কাজে দুর্নীতি
আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি : আজমিরীগঞ্জে প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের ইটসলিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন নোটিশ দিয়ে সতর্ক করার পরও ঠিকাদার মানসম্মত কাজ করছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২৪-’২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে আজমিরীগঞ্জ-পাহারপুর সড়ক থেকে মাটিয়াকাড়া গ্রামের ৩ মিটার প্রস্থ ও এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের ইটসলিং কাজ পায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ মাটির সড়ক টেকসইকরণের লক্ষ্যে এই এইচবিবিকরণ কাজের চুক্তিমূল্য ৮১ লাখ ৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
পরে নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী কাজটি হচ্ছে না বিধায়— গত ৩ ফেব্রুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিবিড় রঞ্জন তালুকদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ সাদ বিন জাহাঙ্গীরের স্বাক্ষরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের বরাত দিয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রকল্পে বালুর পরিমাণ কম এবং নকশা ও প্রাক্কলন মোতাবেক কাজটি হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হল।”
এদিকে, নোটিশ দেওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ করছেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তারা বলেন, নোটিশ শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ঠিকাদার আগের মতই দায়সারাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, ইটের নীচে পর্যাপ্ত বালু দেওয়া হচ্ছে না। ইট বসানোর সময় দূরত্ব বেশি রাখা ও পর্যাপ্ত বালু না দেওয়ায় ইটসলিং টেকসই হচ্ছে না। এছাড়া এক ইটের সঙ্গে আরেক ইটের ফাঁকা স্থানগুলো বালু দিয়ে পূরণ করে রাখা হয়েছে।
প্রাক্কলন অনুযায়ী— কাজের শুরুতে ৪ ইঞ্চি ভিটবালু ফেলে রোলিং ও তারপর মানসম্মত ইট দ্বারা প্রথম ভাজের সলিং এবং পরে আরও এক ইঞ্চি ভিটবালু দিয়ে ফের রোলিং করে ২য় ভাজের সলিং করার কথা; তা ঠিকঠাকভাবে করা হচ্ছে না। কর্মস্থলে নেওয়া হয়নি সলিং কাজের জন্য রোলার মেশিনও।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরেকজন ঠিকাদার বলেন, এই কাজের প্রাক্কলনে ৭০ হাজার ঘনফুট মাটি ও পানি সেচের যে ব্যয় ধরা হয়েছেও তাও অতিরিক্ত।
এ ব্যাপারে মাটিয়াকাড়া গ্রামের দীমান দাস বলেন, সড়কের কোথাও কোথাও মাত্র এক বা দুই ইঞ্চি ভিটবালু দিয়ে সলিং করা হচ্ছে। শুনেছি নিম্নমানের কাজ করায় ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারপরও মানসম্মত কাজ করা হচ্ছে না। রোলার মেশিনে রোলিং না করেই কাজ শেষ করা হচ্ছে।
ভাগ্যধর দাস নামে আরেকজন বলেন, এক্সকেভটর মেশিন দিয়ে রাস্তা ঠিক করে নামমাত্র ভিটবালু দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি আসলেই এ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই দুই ব্যক্তি আরও জানান, তাঁরা ভালভাবে কাজ করার জন্য কর্মরতদের একাধিকবার বলেছেন; কিন্তু কেউ কথা শোনেনি।
অভিযোগের ব্যাপারে সিফাত এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমি কাজের জায়গায় যেতে পারিনি এবং নোটিশটি এখন হাতে পাইনি।
পুরাতন সড়কে রোলিং করতে হয় না দাবি করে তিনি বলেন, সড়ক নতুন হলে রোলিং করতে হয়। আমি ভালভাবে সলিং শেষ করার উদ্দেশ্যে কাজ করছি।
এ ব্যাপারে পিআইও মোঃ সাদ বিন জাহাঙ্গীর বলেন, নোটিশ দেওয়ার পর ভালভাবে কাজ হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। আর সলিং কাজ শেষ করে ৭০ হাজার ঘনফুট মাটি ফেলার কথা। সঠিকভাবে কাজ করলে তবেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে।
