অবশেষে বৃষ্টির দেখা পেলো বোরো ফসল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চৈত্রের হাঁসফাঁস গরমে অবশেষে বৃষ্টির দেখা পেলো হবিগঞ্জ জেলার বোরো ফসল। এই বৃষ্টি ধানগাছে নাইট্রোজেন ও ইউরিয়া সারের ঘাটতি পূরণ করে জমিতে যোগ করবে উর্বরতা।
সম্প্রতি লাগাতার গরমে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছিল। চারদিকে বিবর্ণ পাতা; আর যতদূর চোখ যায়— দেখা দেয় পানির অভাবে প্রাণহীন পরিবেশ।
এই অবস্থায় গত রবিবার দিনগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। যদিও বৃষ্টির পরিমাণ ছিল খুবই অল্প;তারপরও বোরো ফসল কিছুটা উপকৃত হবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা খোয়াইকে জানান, জেলার বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও সদর উপজেলার হাওরে খানিকটা বৃষ্টি হয়েছে। বাকী অঞ্চলগুলোকে শুধু ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এই বৃষ্টিতে বোরো ফসল তেমন সুফল না পেলেও জমিতে ইউরিয়া সারের ঘাটতি পূরণ করে উর্বরতা যোগ হবে।
চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলা মিলে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৮৪ হেক্টর জমিতে ৩ ধরনের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ৫০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর হাইব্রিড, উফসী জাতের ৭২ হাজার ৮০১ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয় ৫০ হেক্টর জমিতে।
হাইব্রিড জাতে হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৬৮ টন, উফসীতে ৬ দশমিক ৯৩ টন ও স্থানীয় জাত থেকে প্রতি হেক্টর থেকে ১ দশমিক ৯ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সে অনুযায়ী বোরো থেকে হবিগঞ্জে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৯ টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা। ধানের হিসাবে গেলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫১৮ টনে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে গত রবিবার রাতে হবিগঞ্জে প্রথম কালবৈশাখী হয়। এ সময় জেলার কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়নি; তবে সদর উপজেলার জগৎপুর এলাকায় কিছু স্থাপনা থেকে টিন উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
