শুরু রোপা আমন ধান কাটা

শুরু রোপা আমন ধান কাটা
শুরু রোপা আমন ধান কাটা

লাখাই উপজেলায় রোপা আমন ধান কাটার কাজ পুরোদমে চলছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে ইতোমধ্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটতে দেখা গেছে। পাশাপাশি অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ধান শুকানো, মাড়াই ও গোলায় তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মাঠঘাটে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। ব্যস্ততার মাঝেও কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ হাইব্রিড জাত এবং ৭০ শতাংশ উচ্চফলনশীল জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্য বলেন, লাখাইয়ে এবার ৬ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উৎপাদন সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি, যার বাজারমূল্য সরকার নির্ধারিত দরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে লাখাইয়ে বোনা আমনের চাষ বেশি হতো। কিন্তু বন্যা না হওয়া এবং কৃষি বিভাগের প্রচারণায় কৃষকেরা এখন হাইব্রিড ও উফশী জাতের আমন চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে হাওরবেষ্টিত লাখাই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, গদাইনগর, সন্তোষপুর এবং বুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আমনের ভালো ফলনে কৃষকের ঘরে স্বস্তি নেমে এসেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭৮০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৫৬০ হেক্টর।

তিনি আরও বলেন, শতভাগ যান্ত্রিক চাষাবাদের আওতায় আসায় শ্রমিক সংকট নেই বললেই চলে। কৃষকের সুবিধার্থে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মালিকদের নির্ধারিত ভাড়ায় সেবা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান কাটতে প্রতি একর জমিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।