নদীর ভিতরে দালানের কোঠা

নদীর ভিতরে দালানের কোঠা
নদীর ভিতরে দালানের কোঠা

হবিগঞ্জ শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর বাঁধ ঘেষে শতাধিক স্থাপনা গড়ে ওঠার পর এবার নদীতে মাটি ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কামড়াপুর সেতু থেকে কিবরিয়া সেতু পর্যন্ত খোয়াই নদীর দুই তীরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে কয়েক শ’ স্থাপনা ও যানবাহনের স্ট্যান্ড। তার মধ্যেই সম্প্রতি বাইরে থেকে মাটি এনে নদী ভরাট করে প্রকাশ্যেই পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

স্থাপনা নির্মাণে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বগলাবাজারের মাছবাজার পেরিয়ে রাস্তার পাশে নদীর বাঁধে অন্তত ১৫টি টিনসেড ঘর গড়ে তুলে ব্যবসা পরিচালনা ও বসবাস করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এক পাশে বাঁশের বাজার; ঠিক পাশেই গাড়িতে করে নদীতে ফেলা হচ্ছে মাটি ও বালু।

পাকা ভবনটি কারা নির্মাণ করছেন, এই প্রশ্নের জবাবে রাজমিস্ত্রীরা কোনো মন্তব্য করেননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা কথা বলতে সম্মত হননি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, “খোয়াই নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ নতুন ঘটনা নয়। তবে নদীর ভিতরে মাটি ফেলে পাকা ভবন নির্মাণ করা এই প্রথম দেখছি। প্রশাসন যদি এখনই আইনগত ব্যবস্থা না নেয়, আমরা আর কিছু করতে পারব না।”

এছাড়া কামড়াপুর সেতু থেকে কিবরিয়া সেতু পর্যন্ত নদীর উত্তর তীর দখল করে গড়ে উঠেছে আরও শতাধিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে খোয়াই নদীর উত্তরপার সিএনজি অটোরিকশা সমিতির কয়েকটি স্থাপনা, রড-সিমেন্টের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসবাসের ঘরবাড়ি।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সংগঠক ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, “নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনে খোয়াই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বন্যার ঝুঁঁকি ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় প্রতিবারই বর্ষায় শহররক্ষা বাঁধ ধ্বসে হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে নদীতে মাটি ফেলে পাকা ভবন নির্মাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন এখনই আইনগত ব্যবস্থা না নেয়, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন নদী রক্ষার জন্য তাদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন এই আন্দোলনে যথাযথ মনযোগ দিচ্ছে না এবং তার মতে, এই পরিস্থিতিতে একটি শহরের সুষ্ঠু পরিচালনা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে একটি পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মঈনুল হক বলেন, “এ ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, প্রশাসন শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নিবে।”