নবীগঞ্জে পাহাড় কাটার মহোৎসব

নবীগঞ্জে পাহাড় কাটার মহোৎসব
নবীগঞ্জে পাহাড় কাটার মহোৎসব

নবীগঞ্জ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল দিনারপুরে অবাধে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে এক শ্রেণির ব্যক্তিরা দেদারসে পাহাড় ও টিলা কাটতে থাকায় প্রশাসনের অভিযানে সাময়িক বিরতি মিললেও কার্যত থামছে না এই ধ্বংসযজ্ঞ।

উপজেলার গজনাইপুর ও পানিউমদা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে। সম্প্রতি পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর পাহাড়ে পাহাড়খেকো চক্র আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযান, মামলা, জরিমানা ও গ্রেপ্তারÑ কোনোটাই থামাতে পারছে না তাদের দৌরাত্ম্য। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে পাহাড় ও টিলা কেটে যাচ্ছে তারা।

এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে এবং রাতের আঁধারে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে পাহাড়-টিলা সাবাড় করা হচ্ছে। টিলা কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কখনো পাহাড়ের মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে, আবার কেউ কেউ পাহাড় সমতল করে ফসলি জমি কিংবা বসতি স্থাপন করছেন। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও জেল দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বস ও ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে। ইতিমধ্যে পাহাড়-টিলা কাটার কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনা। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্যও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড়চর পাহাড় এলাকায় প্রভাবশালী পাহাড়খেকো একটি সিন্ডিকেট সরকারি টিলা দখল করে প্রকাশ্যে ভারী এক্সকেভেটর দিয়ে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে। একই গ্রামের ফজল মিয়ার দখলে থাকা সরকারি টিলা এবং মেহের উল্যার দখলে থাকা সরকারি টিলাও একইভাবে কাটছে চক্রটি।

স্থানীয়রা জানান, ওই মাটি একই গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী দারাজ মিয়ার কাছে ‘চড়া দামে’ বিক্রি করা হয়েছে। দারাজ মিয়া বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে মাটি কিনেছি। তারা পাহাড়-টিলা কেটে দিয়েছে কি না সেটি আমার জনা নেই।”

অন্যদিকে একটি টিলা কেটে নিজের নিচু জমি ভরাট করেছেন শাহ রকিব মিয়া। তিনি বলেন, “আমার মাটি, আমি আমার জায়গায় টিলা কাটছি। টিলা কাটতে অনুমতি লাগার বিষয়টি আমার জানা নেই।”

তবে শাহ রকিব মিয়া পাহাড় কাটার সময় পল্লী বিদ্যুতের একটি মেইন লাইনের খুঁটির চারপাশ খনন করায় খুঁটি এখন হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে খুঁটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ঝুঁঁকি আরও বেশি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আসাদুজ্জামান অনুজ বলেন, “খবর পেয়ে বাহুবল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

বাহুবল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম অমলেশ সরকার বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুঁটিটি টিলা কাটার কারণে হেলে পড়েছে। কারা পাহাড় কাটছে সেটিও আমরা জানতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান বলেন, “আমার ইউনিয়নে কিছু লোক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কাটছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।” নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমীন বলেন, “পাহাড় কাটার খবর পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় জেল-জরিমানাও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”