কিশোর ছিনতাইকারী চক্রের কবলে ছাত্রছাত্রী
হবিগঞ্জ শহরে রেস্টুরেন্টের এক ডেলিভারী কর্মীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনতাই করার অভিযোগে এনামুল হক (১৮) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় আরও ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী।
গত শনিবার দুপুরে পুরান মুন্সেফী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে গেছে।
এনামুল হক উমেদনগর এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হবিগঞ্জ শহরে ম্যাংগো রেস্টুরেন্টের ডেলিভারী কর্মী জাহাঙ্গীর মিয়া গতকাল দুপুরে তার বেতন ও বাজারের ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পুরান মুন্সেফী থেকে সাধুরমাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন কিশোর তাকে মাদককারবারি সন্দেহে তল্লাশির কথা বলে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় এক নারীসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে এনামুল হককে আটক করতে পারলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
পরে তাকে আরডি হলের সামনে ধরে রাখা হয়। এ সময় ছাত্রছাত্রীসহ
আরও ২০-২৫ জন ঘটনাস্থলে এসে তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। তারা জানান, এনামুল শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। তাদের একটি গ্যাং রয়েছে।
খবর পেয়ে বিকেলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক এসআই সুরঞ্জিত দাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করেন। ম্যাংগো রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারী নিশ্চিত করেছেন, জাহাঙ্গীরের কাছে ওই সময় ১৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিল।
জানা গেছে, এনামুল হক উমেদনগরের হলেও জালালবাদ এলাকার পালক মায়ের কাছে থাকতেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানিয়েছেন, ওমরাহ পালনের পর দেশে ফিরে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিজের কাছ থেকে পরিশোধ করবেন। পরিবারের সদস্যদেরও কথা, তাকে কারাগারে রাখা হোক।
রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরঞ্জিত দাশ জানান, এনামুল হক মাদকসেবী ও পেশাদার অপরাধিতে পরিণত হয়েছে। তার আটকের খবর পেয়ে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগ জানিয়েছেন। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
