আমাদের রাজনীতির চালচরিত্র কি একইভাবে চলবে?

আমাদের রাজনীতির চালচরিত্র কি একইভাবে চলবে?
আমাদের রাজনীতির চালচরিত্র কি একইভাবে চলবে?

শামীম আহছান: পরিবর্তিত বাংলাদেশে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় পার করছি। এই সময়ে আমাদের দল, নেতা ও দায়িত্বশীলদের বক্তব্য, আচরণ খুবই সাবধানতার সঙ্গে প্রকাশ করা উচিৎ। তা না হলে এত ত্যাগ, এত রক্ত, এত গুম-খুন, এত নির্যাতন, ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। ছাত্রজনতা এই ব্যর্থতার জন্য কখনও তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণকে কি কয়েক বছর পরপর শুধু রক্ত দিয়েই যাবে? ৫৫ বছরের চাওয়া-পাওয়াগুলো কি এভাবেই মুখ থুবড়ে পড়বে?

মাঝেমাঝেই কারও কারও বক্তব্য মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। আসলে সত্যি কথা বললে দেশের সাধারণ জনগণের চাওয়-পাওয়া খুব সামান্য। তাঁরা কখনও দেশের বাইরে টাকা পাচার করে না, অবৈধ সম্পদের পিছনে ছুটে না, ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ায় না, তাঁরা চায়—  যে ক’দিন আয়ু থাকে সে ক’দিন শান্তিতে বসবাস করতে; সন্তান-সন্ততিদের জন্য একটা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ দিয়ে যেতে। অন্তত তাঁরা যেন ডালভাত খেয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

আমাদের কৃষক-শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কি অনেক বড় কিছু চাওয়া-পাওয়া? অবশ্যই নয়। কিন্তু এই সমান্য চাওয়া-পাওয়াগুলোকে কি আমাদের ক্ষমতাভোগকারীরা পূরণ করতে পারছেন? সেটা হলে অন্তত স্বাধীনতাটা অনেক অর্থবহ হতো। এত মূল্য দিয়ে পাওয়া স্বাধীনতা এভাবেই ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হবে? বিশেষ করে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কি কখনও নিজেদেরকে প্রশ্ন করেছেন, আত্মসমালোচনায় নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড দেখেছেন? অথচ তাঁরা কিন্তু এই জনগণের দোহাই দিয়েই দিনের পর দিন অপশাসন করে গেছেন। আগামীতেও হয়তো করবেন। তাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য বিদেশে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন। জনগণ হয়তো যেভাবে ছিলেন, সেভাবেই থাকবেন। পরিবর্তনের সম্ভাবনা তেমন দেখছি না। হয়তো কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠির ভাগ্যের কিছু পরিবর্তন হবে। অথচ দেশের মাটি ও মানুষের যে সম্ভাবনা-উদ্যমী শক্তি আছে তার পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারলে এই দেশটা সত্যিকারভাবেই বিশ্বে উদাহরণ দেওয়ার মত হতে পারতো।

যখন দেখি— আমাদের কাছাকাছি কিছু ছোট দেশ শুধুমাত্র সৎ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের জন্য কোথায় থেকে কোথায় চলে গেছে। তাঁদের তেমন কোন সম্পদও নেই। শুধু ভাল রাজনীতি ও নেতৃত্বের জন্য তাঁরা বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সুখী দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

জানি না— আমরা আগামী পঞ্চাশ বছরেও এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারবো কি না। তবুও দেশের মানুষ আশায় বুক বাঁধে।

লেখকঃ

সম্পাদক, দৈনিক খোয়াই