মৎস্য কর্মকর্তার মিথ্যা মামলায় বেকসুর খালাস খোয়াই পত্রিকার বদরুল
বানিয়াচং উপজেলার সাবেক সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দৈনিক খোয়াইয়ের প্রধান প্রতিবেদক ও বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি বদরুল আলমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম ফেরদৌস আরা বদরুল আলমসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এ মামলার নিষ্পত্তি হলো।
২০২১ সালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি হ্যাচারিতে দায়িত্বে থাকাকালে মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ওই সময় ‘দুর্নীতির বলয় গড়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা আলম’ শিরোনামে দৈনিক খোয়াই ও বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে মাছরাঙা টেলিভিশনেও একই বিষয়ে সংবাদ প্রচার করেন জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী মোঃ মাসুদ আলী ফরহাদ।
এরপর এসব সংবাদ ঢাকতে সাংবাদিক বদরুল আলম ও ফরহাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন মৎস্য কর্মকর্তা আলম। আসামি দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয় ও দুদকে অভিযোগ দেওয়া আরও কয়েকজনকে। মামলাটি প্রথমে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হলেও পরে সিআইডিকে তদন্তভার দিয়ে তা সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অভিযোগ যুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন সিআইডি হবিগঞ্জের তৎকালীন ওসি মেহেরুন নেছা। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের তৎকালীন এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের নিকটাত্মীয় পরিচয়ে আলম তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন।
টানা সাড়ে চার বছরের বেশি বিচার চলাকালে বানিয়াচং ও শায়েস্তাগঞ্জ মৎস্য অফিসের ঝাড়ুদার ও অফিস সহকারিসহ ছয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে, মৎস্য কর্মকর্তা আলমের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের হলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছিল তার দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও কোন সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই, এতদিনে কয়েকদফা তদন্ত শেষে রায় হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়েই আটকে আছে।
বদরুল আলমকে সহমর্মিতাপূর্ণ আইনী সহায়তা দিয়েছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকারিয়া রকি ও অ্যাডভোকেট মার্জিয়া আমিন চৌধুরী ডায়না। তারা বলেন, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের প্রত্যেকটি অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। স্বাক্ষীরা মিথ্যার উপর ভিত্তি করে আদালতে যেসব অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তা আমরা জেরার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতের সামনে তুলে ধরেছি। সাক্ষীরা সবাই সরকারি মাছ, গাছ ও অর্থ লোপাটে মোহাম্মদ আলম বলয়ের সদস্য বলে আমরা মনে করি। এছাড়া বাদী পাবলিক সাক্ষী দেওয়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তার দুর্নীতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে দৈনিক খোয়াইয়ের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইফ আহছান বলেন, সারাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে সাংবাদিক হয়রানির যেসব নজির রয়েছে, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দিয়ে তিনি একজন সাংবাদিককে বছরের পর বছর মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। মফস্বল এলাকার একজন সাংবাদিককে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মামলায় জড়ানো নিঃসন্দেহে অমানবিক।
